ওই সময় মাথা কাজ করছিল না আকবরের, ক্ষমা চাইলেন

রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দল ইতিহাস রচনা করেছে। নাটকীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ভারতের ‘এ’ দলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ।

ম্যাচটি শুরু থেকেই পেন্ডুলামের মতো চলছিল। এক মুহূর্তে মনে হচ্ছিল জয় হাতছাড়া হতে চলেছে, আবার পরক্ষণেই আশা জেগে উঠছিল। ইনিংসের শেষ বলে জয় নিশ্চিত করতে ভারতের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪ রান। শেষ বলে হার্শ দুবে লং অনে ঠেলে যখন দ্বিতীয় রানের জন্য ছুটছিলেন, উইকেটরক্ষক আকবর আলী বল ধরে তাকে রানআউট করতে গিয়ে তো পারেনইনি, বল ছুড়ে দেন দূরে। ওভার থ্রোর ভুলের সু্যোগে তৃতীয় রান নিয়ে ম্যাচ টাই করে ফেলেন দুবে। এরপর সুপার ওভারে বাংলাদেশের নাটকীয় জয় নিশ্চিত হয়।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আকবর আলী বলেন, “যারা সমর্থন দিয়েছেন, তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। শেষ মুহূর্তে কী করব তা মাথায় আসছিল না। বলটা আমি থ্রো করেছিলাম। সুপার ওভারে বোলিং করতে গিয়ে বললাম, যেকোনো কিছু হতে পারে। দায়িত্ব আমার।”

আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ ১৮ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৪ রান করে। শেষ দুই ওভারে ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি এবং এসএম মেহেরব ভারতের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ৫০ রান যোগ করেন। ২০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৯৪ রান।

ফলাফল অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে নামা ভারত বিস্ফোরক শুরু করলেও শেষ দুই ওভারে চাপের মুখে আসে। ডেথ ওভারে বাংলাদেশের বোলিং যথেষ্ট কার্যকরী ছিল। ১৯তম ওভারে মাত্র ৫ রান খরচে ১ উইকেট নিয়েছেন রিপন মণ্ডল। সুপার ওভারে প্রথম দুই বলে ২ উইকেট নিয়ে ভারতকে রানের খাতাই খুলতে দেননি তিনি।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অধিনায়ক আকবর আলী আরও বলেন, "আমরা যখন ১৮০ রান লক্ষ্য করেছি, তখন মনে হয়েছিল এটা সম্ভব। তবে ইয়াসির এবং মেহেরব শেষ পর্যন্ত দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। রিপনের বোলিংও আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।”

আকবর আলী শুধু ওভার থ্রোর ভুলই করেননি, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচও ফেলেছেন। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইনিংসে ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন। তবে এসএম মেহেরব ১৮ বলে ৬ ছক্কা ও ১ চারে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং ম্যাচে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রিপন।