শিশুর খাবারে অ্যালার্জি

শিশুর খাবারে এলার্জি সাধারণ এক সমস্যা, কিন্তু খাবারে এলার্জি যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে তাহলে কিন্তু এটি শিশুর শরীরের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে। শতকরা ১০ ভাগ শিশুর ক্ষেত্রে খাবারে অ্যালার্জি থাকতে পারে। ৩ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে খাদ্য অ্যালার্জি বেশি হয়, এ সময় বিভিন্ন খাবারে অ্যালার্জি থাকতে পারে। তবে বড় শিশুদের বেলায় শতকরা ৪ থেকে ৫ জন এই খাবারের অ্যালার্জি সমস্যায় আক্রান্ত হয়।

কেন হয়

আমাদের শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা অনেক সময় খাবারের কোনো উপাদানকে চিহ্নিত করে সেটার বিরুদ্ধে একটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এর কারণেই আমরা খাবারের অ্যালার্জির নানা উপসর্গ দেখে থাকি।

কোন কোন খাবারে অ্যালার্জি হয়

ছোটদের ক্ষেত্রে : ডিম, দুধ ইত্যাদি খাবারে।

বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে : বাদাম, গম, মটর দানা, সয়াবিন, সামুদ্রিক খাবার ইত্যাদি।

কীভাবে বুঝবেন

খাবারের অ্যালার্জি হলে এটা শরীরের বিভিন্ন অংশে অ্যালার্জির নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন

নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, শুষ্ক কাশি।

ত্বকে লাল ফুসকুড়ি হওয়া, চাকা হয়ে ফুলে যাওয়া।

বমি, ডায়রিয়া, পেট ফুলে যাওয়া।

চোখে চুলকানি, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ ফুলে যাওয়া।

ঠোঁট, জিহ্বা, ফুলে যাওয়া, ঠোঁটের চারপাশে লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানো।

এটি যদি অতিরিক্ত মাত্রায় পৌঁছে যায় তাহলে অনেক সময় তীব্র শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, রক্তচাপ এবং নাড়ির গতি কমে যেতে পারে যাকে আমরা Anaphylaxis বলে থাকি।

শনাক্তকরণ

মূলত রোগের উপসর্গ এবং ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করা যায়। যেমন

 রোগীর পরিবারে কারও এই সমস্যা আছে কি না।

 খাবার খাওয়ার কতক্ষণ পরে এটি হয়েছে।

 কী কী খাবার খাওয়ার পর এই সমস্যাগুলো হয়।

পরীক্ষা

 n Food allergy test  বা Allergy panel test-এর মাধ্যমে কোন খাবারে অ্যালার্জি আছে তা নির্ণয় করা যায়। এছাড়া রক্তে আইজিই (IgE) লেভেল পরিমাপ করা হয়।

চিকিৎসা

দুধ, ডিমে যে সব বাচ্চার অ্যালার্জি থাকে ৭০-৮০ ভাগ ক্ষেত্রে ৭-৮ বছর বয়সে অ্যালার্জি ভালো হয়ে যায়। তবে বাদামে যে সব বাচ্চাদের অ্যালার্জি থাকে ওদের ২০-৩০ ভাগ ক্ষেত্রে ভালো হতে একটু সময় প্রয়োজন হয়।

প্রতিরোধ

সুষম খাবার খাওয়াতে হবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে।

ধূমপানমুক্ত খোলামেলা পরিবেশে শিশুকে রাখুন।

নিয়মিত গোসল করাতে হবে।

যদি কোনো নির্দিষ্ট খাবারে অ্যালার্জি ভাব থাকে সেই খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং অন্য বিকল্প খাবার শিশুদের অভ্যস্ত করুন।

শিশুর ৭-৮ বছর বয়স হলে আপনি সব ধরনের খাদ্যে অল্প অল্প করে শুরু করতে পারেন।