জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট কৌশল নিয়ে চরম দোটানায় পড়েছে। দলের ছাত্র উপদেষ্টারা বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনের পক্ষে থাকলেও শীর্ষ নেতৃত্ব অন্তত ২০টি আসন, সাংগঠনিক সহায়তা ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা চাইছে।
গত ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিপাড়ায় এক উপদেষ্টার বাসভবনে এনসিপির ৩০ জনের বেশি নেতার বৈঠক এবং পরদিন দলীয় কার্যালয়ে সাধারণ সভায় এ সংক্রান্ত আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দুই উপদেষ্টাসহ শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ বিএনপির সঙ্গে জোট চাইলেও অধিকাংশ নেতা কম আসন বরাদ্দ ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এই জোটে অনাগ্রহী।
এনসিপির নেতারা বিএনপির কাছ থেকে অন্তত ২০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ, নির্বাচনী মাঠে সাংগঠনিক সহায়তা করা, দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তার শর্তসাপেক্ষে জোট গঠনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিএনপির সঙ্গে শর্ত পূরণ না হলে এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন আট দলের সঙ্গে বিএনপিবিরোধী বৃহত্তর নির্বাচনী সমঝোতা গঠনে আগ্রহী। দলের সাধারণ সভায় অনেক নেতা যুক্তি দেখান, মাত্র ৮টি আসনের জন্য বিএনপির সঙ্গে জোট করা ঠিক হবে না। এর চেয়ে এনসিপির ৩০০ আসনে এককভাবে নির্বাচন করা উচিত।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিএনপির সঙ্গে জোটের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন চাহিদা পূরণ ছাড়া জোটে যেতে রাজি নন।
রাজনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত এক মাসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এনসিপির একাধিক নেতা বৈঠক করেছেন। এনসিপি নেতারা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদের সাথেও আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জোট প্রসঙ্গে বলেন, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নে যে দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির অবস্থান কাছাকাছি, তাদের সঙ্গে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা হতে পারে।
নির্বাচনী কৌশল চূড়ান্ত না হওয়ায় এনসিপি এখনো বিভিন্ন বিকল্প সুযোগ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।