একসময় আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন ওয়ার্নারের স্ত্রী

অস্ট্রেলিয়ার তারকা ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারের স্ত্রী ক্যান্ডিস ওয়ার্নার একসময় তীব্র মানসিক চাপ, অপমান আর অনলাইন বিদ্বেষের কারণে আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন—এমনটাই জানিয়েছেন তিনি নিজেই।

২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ডের রাগবি তারকা সনি বিল উইলিয়ামসের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা হয়। সে সময় তিনি বয়সে তরুণী, আর ঘটনাটি ঘটেছিল অনেক আগেই—ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে সম্পর্ক শুরুর বহু বছর আগে। তবু সেই অতীতই তাকে বছরের পর বছর ধরে ‘স্লাট-শ্যামিং’, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ আর অপমানের মুখে ফেলে দেয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে তৈরি এক পডকাস্টে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্যান্ডিস বলেন, “অনেকবারই মনে হয়েছে জীবনটা শেষ করে দিই। একবার গাড়ি চালিয়ে দ্য গ্যাপে গিয়ে থেমে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল কোনো পথ নেই, কোনো পালানোর জায়গা নেই। লজ্জায় আর অপমানে ডুবে ছিলাম।” তিনি আরও বলেন, “সেই সময়ে নারী হওয়াটাই যেন অপরাধ ছিল। আমাকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছিল, যা সহ্য করা খুব কঠিন ছিল।”

এমন এক অন্ধকার মুহূর্তে তার ভাইয়ের একটি ফোন কলই তাকে ফিরিয়ে আনে। ক্যান্ডিস বলেন, “আমি ভাইকে ফোন করি। সে আমাকে বলেছিল, ‘কিছু করিস না, আমি এসে নিয়ে যাচ্ছি।’ সেই কথাই আমাকে আটকেছিল।”

২০২৪ সালে ‘আই’ম আ সেলিব্রিটি…গেট মি আউট অব হিয়ার!’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ক্যান্ডিস বলেন, “একটা ভুল করেছিলাম—তরুণ বয়সের একমাত্র ভুল। কিন্তু গণমাধ্যম আমাকে ছাড়েনি। পরিবারের ওপর চাপ ছিল সবচেয়ে বেশি। রাস্তায় মানুষ আমার বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করত, ‘তোমার মেয়ে কি করছে?’ এসবই ছিল সবচেয়ে যন্ত্রণার।” তিনি জানান, অতীতের ঘটনার পর পরিবারকে নিয়ে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরে চলে যেতে হয়েছিল, যাতে অন্তত একটু স্বাভাবিক জীবন পাওয়া যায়।

ওয়ার্নার পরিবার

এখন স্থিতিশীল জীবন ক্যান্ডিসের। সাবেক আইরনওম্যান ২০১৫ সালে ডেভিড ওয়ার্নারকে বিয়ে করেন। তাদের তিন কন্যা—আইভি (১০), ইন্ডি (৮) এবং আইলা (৫)। ক্যান্ডিস বলেন, “আমরা যে জীবন গড়েছি তা আমি ভালোবাসি। মাঝে মাঝে মনে হয়, একটু শান্ত জীবন হলে ভালো হত—যেখানে সবাই আমাদের বিষয়ে এত কিছু জানত না। তবে পরিবার, সক্রিয় থাকা আর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—এসবই আমাদের সুখী রাখে।”

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সনি বিল উইলিয়ামস এখন রাগবি ছেড়ে বক্সিংয়ে মন দিয়েছেন। তিনিও সেই দীর্ঘদিন আগের ঘটনা থেকে অনেক দূরে এগিয়ে গেছেন।