গল্পপ্রধান নাটকে আগ্রহ বাড়ছে দর্শকের

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকের রুচির যেমন পরিবর্তন হয়, তেমনি তাদের চাহিদার কথা চিন্তা করে নির্মাতারাও বদলাতে থাকেন নাটক টেলিছবির গল্পের ধরন। এই তো কিছুদিন আগেই নাটক থেকে পারিবারিক গল্প যেন পুরোপুরি উধাও হয়ে গিয়েছিল। অস্থির দর্শককে বিনোদনের খোরাক জোগাতে মাত্র দুই-তিনজন শিল্পী দিয়ে রোমান্টিক ঘরানার একক নাটক উপহার দিয়েছেন লগ্নিকারকরা। আবার এসব নাটকে যখন দর্শকের বিরক্তি চলে আসে, তখন রুচি ফেরাতে আবার গল্পপ্রধান ও ফ্যামিলি ড্রামায় ফিরে যান পরিচালকরা। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি পারিবারিক ও ভিন্ন ধারার গল্পের নাটক মনে ধরেছে দর্শকের। এ তালিকায় সর্বশেষ যোগ হলো ‘বাবাও মানুষ’ নামের একটি একক নাটক। সদ্য প্রচারে আসা ইকসান রনির আবেগঘন নির্মাণে তৈরি নাটকটি দর্শক হৃদয়ে গভীর দাগ কাটছে।  বাবাদের সারা জীবনের ত্যাগ, চিন্তা, পরিশ্রম ও না-বলা যন্ত্রণার গল্প তুলে ধরা হয়েছে এই নাটকে। নাটকে দেখানো হয়েছে যে বাবা একসময় পরিবারকে আগলে রাখেন, বয়সের ভার ও দুর্ভাগ্যের কাছে পরাজিত হলে সেই মানুষটিই অনেক সময় পরিবারের কাছে ‘বোঝা’ হয়ে ওঠেন। সন্তানরা তখন আর দেখতে চায় না বাবার ক্লান্ত কাঁধ, নীরব ত্যাগ কিংবা দীর্ঘশ্বাসের গল্প।

নাটক প্রসঙ্গে নির্মাতা ইকসান রনি বলেন, ‘এটা শুধু একটা নাটক না, এটা বাস্তবতা। এটি আমার খুব কাছের ও ভালোবাসার গল্প। যাকে ভেবে গল্পটি লিখেছি, তাকে নাটকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। সে আর বেঁচে নেই, কিন্তু আমার হৃদয়ে আছে। দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’ নাটকটির দুর্দান্ত নির্মাণশৈলী, পরিচ্ছন্ন কালার গ্রেডিং, ক্যামেরা কাজ ও হৃদয়ছোঁয়া মিউজিক ইতিমধ্যেই দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অন্যদিকে, দর্শক বেশ সানন্দে উপভোগ করছে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘এটা আমাদের গল্প’ ধারাবাহিক নাটক। গত ৫ নভেম্বর থেকে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার সিনেমাওলার ইউটিউব চ্যানেল এবং চ্যানেল আইতে সম্প্রচার হচ্ছে এটি। নাটকটিতে অভিনয় করছেন একঝাঁক প্রতিভাবান তারকা ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, খায়রুল বাসার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার, মনিরা আক্তার মিঠু, নাদের চৌধুরী, শিল্পী সরকার, অপু ডিকন নূর ও মাহমুদুল ইসলাম মিঠু। নাটকটি নিয়ে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, ‘এটি মূলত পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি। আমাদের সমাজের মূল শক্তি পরিবার। পরিবারকে কেন্দ্র করে বলা গল্পগুলো দর্শকের হৃদয়ে সবসময় গভীর প্রভাব ফেলে।’