প্রতিরক্ষা খাতে আরও বড় বিনিয়োগের পথে তাইওয়ান সরকার

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ঘোষণা অনুযায়ী, সম্ভাব্য চীনা হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটি অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা ব্যয় করার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে।

ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত একটি মতামত লেখায় লাই বলেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় আকারের আধুনিক অস্ত্র কেনা এবং তাইওয়ানের অসামান্য যুদ্ধক্ষমতা আরও জোরদার করতে ব্যয় করা হবে। তার ভাষায়, লক্ষ্য হলো বেইজিং কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার খরচ ও ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেওয়া।

গত এক দশকে চীনা সামরিক চাপ বাড়তে থাকায় তাইওয়ান ধারাবাহিকভাবে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও তাইপেকে দ্রুত সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে সরকার আগামী বছরের জন্য এনটি$ ৯৪৯.৫ বিলিয়ন (প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার) প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছে—যা জিডিপির ৩.৩২ শতাংশ। ২০২৬ সালে এ হার ৩ শতাংশের বেশি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ শতাংশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

লাই আরও জানান, তারা দ্রুত 'টি-ডোম' নামের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কাজ এগিয়ে নেবেন, যা তাইওয়ানকে আরও সুরক্ষিত করে তুলবে।

সম্প্রতি জাপান ও চীনের মধ্যে তাইওয়ান নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। টোকিওর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে তাইওয়ানের ওপর কোনো হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই মাসের শুরুতে ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্রাংশ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে—ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি তাইওয়ানের জন্য প্রথম সামরিক ক্রয়।  

তবে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের এই পরিকল্পনা পার্লামেন্টে বাধার মুখে পড়তে পারে। কারণ চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পক্ষে থাকা প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি) তাইওয়ান পিপলস পার্টির সহায়তায় বাজেট নিয়ন্ত্রণ করছে। নতুন কেএমটি চেয়ারম্যান চেং লি-উন ইতোমধ্যেই বলেছেন, তাইওয়ানের এই ধরনের ব্যয় বহন করার জন্য যথেষ্ট সম্পদ নেই।