বিডার সিইও আশিক চৌধুরী

বন্দরে বিদেশি অপারেটর নিয়ে অভিযোগ ‘ভাসা ভাসা’

বন্দরে বিদেশি অপারেটর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগকে ‘ভাসা ভাসা’ ও ‘ভ্রান্ত ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বুধবার (২৫ নভেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া একটি বিশ্লেষণমূলক পোস্টে তিনি লেখেন, বন্দর পরিচালনায় চলমান শুদ্ধি অভিযানের সময় বিভিন্ন পক্ষ বিভ্রান্তিমূলক যুক্তি তুলে ধরলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আশিক চৌধুরী লিখেছেন, ছোটবেলায় শোনা ‘বন্দরে চেয়ার-টেবিলও নাকি ঘুষ খায়’এ ধরনের সংস্কৃতির মধ্যেই বহুদিন ধরে বন্দর পরিচালনা হয়েছে। এখন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় যে তীব্র আলোচনা সমালোচনা চলছে, তা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক। 

তিনি দাবি করেন, অতীতে এমন হলে ‘ইন্টারনেট নিজে নিজে বন্ধ হয়ে যেত’। কিন্তু বর্তমানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কঠোর অবস্থান আশাব্যঞ্জক।  বিরোধীদের ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘সার্বভৌমত্ব’ সংক্রান্ত শঙ্কাকে ‘সবচেয়ে হাস্যকর যুক্তি’বলে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, বাস্তবতার সঙ্গে উদ্বেহের কোনও মিল নেই।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা কাঠামোর উদাহরণ টেনে আশিক চৌধুরী লেখেন, প্রতিটি জাহাজকে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কনটেইনারের বিল অব লেডিংসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়। খালাসের সময় কাস্টমস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডও নিরাপত্তা প্রটোকল কঠোরভাবে তদারকি বহু বছর ধরেই চলছে। বিদেশি অপারেটর  এলেও এসব কিছুই পরিবর্তন হবে না।

বিদেশি নাগরিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকলে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্রিনিং থেকে শুরু করে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স-সবকিছুই দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করবে বলেও জানান বিডা চেয়ারম্যান। পাশাপাশি টার্মিনালে ব্যবহৃত প্রযুক্তি, ডেটা লোকালাইজেশন, সাইবার নিরাপত্তা এবং অ্যাক্সেস কন্ট্রোল সবই সরকারের অনুমোদিত মানদণ্ডে পরিচালিত হবে।

দেশপ্রেমের নামে অযৌক্তিক উদ্বেগ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখের, যদি সত্যিই জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে এত চিন্তা হয়, তাহলে সশস্ত্র বাহিনীর কাউকে জিজ্ঞেস করুন-তারা কি মনে করেন?

আশিক চৌধুরীর মতে, চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি বিনিয়োগ বরং নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। কারণ, ‘বন্ধুপ্রতিম দেশের বিনিয়োগ থাকলে তারা নিজের স্বার্থেই বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষায় আগ্রহী হবে। আধুনিক বিশ্বে ইকোনমিক ইন্টারেস্টের চেয়ে শক্ত ঢাল আর কিছু নেই। 
মন্তব্যে তিনি লেখেন, বিশ্বের অনেক দেশ; যাদের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশ থেকেও বেশি স্পর্শকাতর-নিয়মিতভাবেই বিদেশি অপারেটর দিয়ে বন্দর পরিচালনা করে। কিন্তু বাংলাদেশে সামান্য বিদেশি উপস্থিতিতেই অতিরিক্ত সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা তিনি ‘অদ্ভুত আত্মভ্রম’ বলে মন্তব্য করেন।

পোস্টের শেষে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে একটি ইনফোগ্রাফিকও শেয়ার করেন এবং আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানান।