রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক

‘শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি লোভ আছে’

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি জমি অবৈধভাবে বরাদ্দ ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত তিনটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এজলাসে উপস্থিত হয়ে তিনটি পৃথক মামলায় রায় ঘোষণা করেন। 

রায়ের সময় বিচারক মন্তব্য করেন, ‘শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি লোভ আছে। তিনি বরাদ্দ না চাইলে কাগজ ছুড়ে ফেলতে পারতেন। প্লট না নিতে পারতেন। তাঁর লিগাল অ্যাডভাইজার ও ল মিনিস্টার আছে। তাদের দিয়ে মানা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ নেন। এ ক্ষেত্রে রাজউক, গৃহায়ন মন্ত্রণালয় ও শেখ হাসিনা প্রতারণা করেছেন।’

দুদকের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে সাজা দিয়েছেন আদালত। অন্যান্য আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা—যাবজ্জীবন—প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে পলাতক অবস্থায় থাকার কারণে শেখ হাসিনা ও পরিবারের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। মামলাগুলোর মধ্যে একটি মামলায় ১২ জন, অন্যটিতে ১৭ জন এবং তৃতীয় মামলায় ১৮ জন আসামি ছিলেন।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি জমি অবৈধভাবে বরাদ্দের অভিযোগে গত জানুয়ারিতে দুদক পৃথকভাবে ছয়টি মামলা দায়ের করেছিল। এরপর ৩১ জুলাই তিনটি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নং রাস্তার ছয়টি প্লট নিজেরা ও পরিবারের নামে বরাদ্দ নেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি জমি আত্মসাৎ করার জন্য মাকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনও এক নথি বিনষ্ট বা গায়েব করার মাধ্যমে শাস্তি এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই আন্দোলন দমন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দেশের রাজনীতিতে এর আগে বেগম খালেদা জিয়া ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদেরও ক্ষমতামন্দির সময় দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় সাজা পাওয়া ইতিহাস রয়েছে।