গজারিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জয় সরকার (২৬) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ বেকু হাসান-লালু গ্রুপের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। তার আগে জয়ের বাবাকেও নৃশংস ভাবে কুপিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছিল এই গ্রুপ।

হত্যাকাণ্ডের শিকার জয় সরকার (২৬) উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়ন এর চর চৌদ্দ কাউনিয়া গ্রামের মো. জামাল হোসেনের এক মাত্র ছেলে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলা বাউশিয়া ইউনিয়ন এর চর চৌদ্দ কাউনিয়া গ্রামের খেয়াঘাট ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সড়কের পাশে পতিত জমিতে এই ঘটনা ঘটে। 

সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, জামাল সরকার ও তার ভাইয়েরা  নদীতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার, সড়কে সিএনজি ও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে কিন্তু বছর দুই পূর্বে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী বেকু হাসান গ্রুপের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে বেকু হাসান গ্রুপের চক্ষুশূল হয়ে যায়। পরবর্তী একই কারণে পাশের গ্রামের লালু গ্রুপের সাথেও সৃষ্টি হয় দ্বন্দ্ব। যার ফলে তাদের উপর একাধিক বার হামলার ঘটনা ঘটে। ১৪ মাস আগে হামলা করে জামাল সরকারকে কুপিয়ে পঙ্গু ও তার ছোট ভাই মুক্তার হোসেন এর কব্জি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে যার প্রেক্ষিতে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন তিনি। এখন আবার এক মাত্র সন্তান হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। 

জামাল হোসেন অশ্রুসিক্ত হয়ে জানান, ছেলেটা সন্ধ্যায় ফুফুর বাড়ি থেকে এসে বাড়িতেই ছিল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে স্থানীয় দেলোয়ার, স্বাধীন, পান্না জয়কে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই বাড়ি থেকে একটু সামনে সড়কের পাশ থেকে গুলির বিকট শব্দ শুনতে পেলাম। বাড়ি থেকে লোকজন যেতে যেতে আমার টগবগে ছেলেটাকে ওরা গুলি করে কুপিয়ে মেরে ফেললো।

পরে স্থানীয়রা ও আত্নীয় স্বজনরা জয়কে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন। 

বিষয়টা নিয়ে জয়ের বড় বোন জুলিয়া আক্তার বলেন, বাবাকে কুপিয়ে পঙ্গু ও চাচাকে কুপিয়ে কব্জি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারে নাই। সেই মামলায় আসামিরা জামিন নিয়ে এসে প্রতিনিয়ত আমার ছোট ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল। এখন আমরা কোথায় কার কাছে গেলে বিচার পাবো। আমরা আমাদের ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

বিষয়টা নিয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, নিহত ছোট বোন জান্নাতি ২২ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ১০/১২ জন উল্লেখ্য করে মামলা দায়ের করেছে। আমরা আসামীদের গ্রেপ্তার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই ঘটনা জড়িতদের কোনও ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ সন্ধ্যার মধ্যে বাড়িতে চলে আসবে।দাফন কাপনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান করছেন।