শ্রীপুরে ছুরিকাঘাতে ৫ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

গাজীপুরের শ্রীপুরে বার্ষিক পরীক্ষার হলে একই বেঞ্চে বসার জেরে দ্বন্দ্বের পর এক শিক্ষার্থী ক্ষিপ্ত হয়ে অপর শিক্ষার্থীর ওপর ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা চালায়।

এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা ঝগড়া ও হামলা থামাতে এগিয়ে আসলে, হামলাকারী তাদেরও ছুরিকাঘাত করে। এতে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। 

তাদের মধ্যে গুরুতর তিন শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, তিনজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বরমী ইউনিয়নের গাড়ারণ খলিলিয়া বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসায় পাঁচ শিক্ষার্থীর ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, এটি মেয়েদের উত্যক্তের জেরে সংঘটিত হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে হামলাকারী শিক্ষার্থীকে আটক করা যায়নি। ঘটনার পরপরই সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীকে আটক করতে একাধিক টিম মাঠে নামানো হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম সিয়াম হাসান ভূঁইয়া (১৫)। তিনি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সিয়াম হাসান সাতখামাইর গ্রামের শাহজাহান ভূঁইয়ার ছেলে।

অপর দিকে আহত শিক্ষার্থীরা হলেন নাজিম উদ্দীন, রিফাত মিয়া, রাশিদুল ইসলাম, মহিউদ্দীন ও রিফাতুল ইসলাম। তারা সবাই দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়ারণ খলিলিয়া বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসায় চূড়ান্ত পর্বের (বার্ষিক) পরীক্ষা চলছিল। 

বুধবার পরীক্ষার হলে একই বেঞ্চে বসার জেরে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম হাসানের সঙ্গে দশম শ্রেণির কয়েক শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর দুই পক্ষকে ডেকে মাদ্রাসার শিক্ষকরা বিষয়টি মীমাংসা করেন। তবে সিয়াম তা মেনে নেয়নি।

ফলে বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হওয়ার সময় আগে থেকে সঙ্গে রাখা ছুরির মাধ্যমে সিয়াম একজনের ওপর হামলা চালায়। অন্যরা এগিয়ে আসলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করে। 

পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে আহতদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডা. নাসরিন জামান বলেন, “পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অবস্থায় আমাদের কাছে আনা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। দুজনের চিকিৎসা আমাদের এখানে চলছে। রেফারকৃত তিনজনের ছুরিকাঘাত বেশ গুরুতর, অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, মাদ্রাসার মেয়েদের উত্যক্তের জেরেই সিয়াম এই হামলা চালায়। সিয়াম বিভিন্ন সময়ে মেয়েদের উত্যক্ত করতো, যার প্রতিবাদে ঘটনা ঘটে। 

হামলাকারী সিয়ামের ওইদিন কোনো পরীক্ষা ছিল না এবং সকাল থেকেই মাদ্রাসার আশেপাশে ঘুরাফেরা করছিল। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আচমকাই ধারালো ছুরি দিয়ে হামলা চালায়।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল বারিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আটক করতে পুলিশ কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।