খুলনা মহানগরীতে প্রায় দেড় হাজার অসহায় পথশিশু ও দরিদ্র মানুষদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে ফুড ব্যাংকিং খুলনা কল্যাণ সংস্থা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক সংগঠন ট্রুইউ ক্লাব চ্যারিটির অর্থায়নে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় দেড় হাজার মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পথশিশু ও সুবিধা বঞ্চিতদের দুপুরের খাবার খাওয়ানো হয়। আগামীতেও এই ধারা চালু থাকবে বলে জানান আয়োজকরা। তবে অনেকে মনে করছেন, প্রতিষ্ঠানটির এমন উদ্যোগ গ্রহন করায় সুবিধা বঞ্চিত শিশু ও মানুষ একবেলা পেটপুরে খাবার খেতে পারছে। ফলে অসহায় মানুষের জন্য অন্যতম একটি মহৎ দৃষ্টান্ত।
বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে থেকেই শত শত মানুষ খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে সমবেত হতে থাকে। পরে সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে তাদের মধ্যে রান্না করা চিকেন বিরিয়ানি, সিদ্ধ ডিম, ডাল ও বোতলজাত পানি বিতরণ করা হয়। অনেক দূর থেকেও হতদরিদ্র মানুষ এসে খাবার গ্রহণ করেন। হুইল চেয়ারে করেও অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকেও আসতে দেখা যায়।
খেতে আসা মানুষরা তাদের জন্য খাবারের আয়োজন করায় খুব সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, খুলনায় বহু মানুষ আছেন, যারা ঠিকমত খাবার পান না, এ রকম খাবারের আয়োজনে করলে তারা একবেলা হলেও পেটপুরে খাবার খেতে পারেন।
আরমান মিয়া নামের একজন বলেন, বিত্তবানরা যদি এ ধরনের খাবারের আয়োজন করে তাহলে গরীব মানুষদের না খেয়ে থাকতে হবে না। এক সঙ্গে এতো মানুষের সঙ্গে খাবার খেতে পেরে খুব ভালো লেগেছে বলে জানায় আরমাান। খাবার খেতে আসা অনেকেই আরমানের মতো অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
ফুড ব্যাংকিং খুলনা কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শাহরিয়ার মাসুদ মেঘ বলেন, ২০১৭ সাল থেকে আমরা অসহায় মানুষদের মাঝে খাবার বিতরণ করে আসছি। প্রথম থেকেই বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতা ও দাতা সংস্থার অর্থায়নে সপ্তাহে ছয় দিন নগরীর বিভিন্ন স্থানে খাবার বিতরণ করে থাকি। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার খাবারের আয়োজনে সহযোগিতা করেছে অস্ট্রেলিয়ার ট্রুইউ ক্লাব চ্যারিটি নামের একটি সংগঠন।
ট্রুইউ ক্লাব চ্যারিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ভেলেরি মালিনোভেসকি বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে আমরা অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অসহায়দের জন্য নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকি। এবার বাংলাদেশের অসহায়দের জন্য রান্না করা খাবারের আয়োজন করেছি। এক সঙ্গে এতো মানুষকে খাবার খাওয়াতে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগছে। আগামীতেও আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।