নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একের পর এক চারটি মামলা দায়ের করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে তদন্ত শেষে এসব মামলা করা হয়।
দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক জয়ন্ত সাহা বাদী হয়ে নীলফামারী সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে আসামি করে চারটি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সৈয়দপুর শহরের ব্যবসায়ী মো. আলতাফ হোসেন ও তার স্ত্রী আফসানা পারভীন, জাতীয় পার্টির নেতা ও ঠিকাদার মো. জয়নাল আবেদীন, সৈয়দপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা এরশাদ হোসেন পাপ্পু, এবং পৌরসভার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আইয়ুব আলী।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক রংপুর কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক জয়ন্ত সাহা।
দুদক সূত্র জানায়, গত ২৩ নভেম্বর দায়ের করা দুটি মামলায় আফসানা পারভীন ও ঠিকাদার জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে রেলওয়ের জমি ও ভবন অবৈধভাবে দখল, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে ১৬ নভেম্বর করা দুটি মামলায় ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর এরশাদ হোসেন পাপ্পু এবং সাবেক প্রকৌশলী মো. আইয়ুব আলীকে আসামি করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক ও শহীদ জহুরুল হক সড়কের পাশে রেলের জমিতে আলতাফ হোসেন পাঁচটি স্থাপনা নির্মাণ করেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৫৬ বর্গফুট আয়তনের একটি বহুতল ভবনে ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে।
অন্যগুলোতেও রয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসবাসের ব্যবস্থা। অভিযোগ অনুযায়ী, এগুলো কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই রেলওয়ের জমিতে নির্মিত হয়েছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের অভিযোগের পর ঘটনাটি তদন্ত করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হোসাইন শরীফ, যিনি বর্তমানে দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, “জমির কিছু অংশ আগে থেকেই আমার মায়ের নামে পজিশন নেওয়া ছিল। বাকি অংশ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে পজিশন কিনেছি স্ত্রীর নামে। রেল পৌরসভাকে যে ২৫.৭৫ একর জমি দিয়েছে, সেই সীমানার মধ্যেই ভবন নির্মাণ করেছি। পৌরসভার অনুমোদিত নকশা অনুযায়ীই স্থাপনা করা হয়েছে।”
সাবেক কাউন্সিলর এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। আলতাফ হোসেনের কাগজপত্র যাচাই করে পৌরসভা নকশা অনুমোদন দিয়েছে। রেলের জমিতে ভবন নির্মাণের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”