শ্রমিক অধিকার উপেক্ষা করে লাভবান বিশ্বব্যাপী গার্মেন্টস শিল্প

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার গার্মেন্ট শিল্পে শ্রমিকদের ওপর চলা শোষণের নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) প্রকাশিত সংস্থাটির নতুন দুইটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো কম বেতনপ্রাপ্ত, মূলত নারী শ্রমিকদের শোষণ করে লাভ করছে এবং তাদের শ্রম অধিকার দমন করছে। 

'স্টিচড আপ: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার গার্মেন্ট শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ হওয়ার স্বাধীনতা নিবারণ'  এবং 'অ্যাবানডন্ড বাই ফ্যাশন: শ্রমিক অধিকার রক্ষায় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর জরুরি পদক্ষেপ' শিরোনামের প্রতিবেদন দুটি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হওয়া ইউনিয়ন বিরোধী আচরণ, হয়রানি ও সহিংসতার কেসগুলো তুলে ধরেছে। গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে এসব সমস্যা বেশি দেখা যায় বলে জানা যায় প্রতিবেদনে।     

অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, এই চারটি দেশে প্রশাসন ও ফ্যাক্টরি মালিকরা পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের ইউনিয়নে যোগদানের বা প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করে। বাংলাদেশে আইনি বিধিনিষেধ ইউনিয়ন গঠনকে বাধাগ্রস্ত করছে, ভারতের অনেক হোমওয়ার্কারকে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় শ্রমিকরা ইউনিয়ন কার্যক্রমের কারণে বেতন কম পাওয়া, হয়রানি এবং চাকরি হারানোর শিকার হন।
 
রিপোর্টগুলো মানবাধিকার সংক্রান্ত সতর্কতা ও নিয়ম মানাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর সমালোচনা করেছে। অ্যাডিডাস, এসস, ইন্ডিটেক্স, ওটো গ্রুপ এবং প্রাইমার্ক তাদের নীতি ও প্রয়োগ নিয়ে অ্যামনেস্টির জরিপের পূর্ণ উত্তর দিয়েছে, কিন্তু অনেক ব্র্যান্ড আংশিক বা কোনো তথ্যই প্রদান করেনি। কোড অফ কন্ডাক্ট থাকলেও সরবরাহ চেইনে স্বাধীন ইউনিয়নের অভাব শ্রমিকদের শোষণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
   
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস কলামার্ড বলেছেন, 'শিল্পটি দশক ধরে অত্যন্ত কম বেতনপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত শ্রমঘন্টা, এবং মূলত নারী শ্রমিকদের শোষণের ওপর গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন কোম্পানিগুলোর অনৈতিক ব্যবসায়িক মডেলের চিত্র'  
 
সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ২০টি ফ্যাক্টরিতে ৮৮টি সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই রিপোর্টগুলো দেশগুলোর সরকার এবং ব্র্যান্ডগুলোর কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার গার্মেন্ট শ্রমিকদের শ্রমিক অধিকার এবং ইউনিয়নে যোগদানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যায়।