ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলিতে নিহত ছাত্রদলকর্মী সাদ্দাম হোসেনর লাশ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাদ্দামের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে এ বিক্ষোভ হয়। সাদ্দাম ছাত্রদলের একজন কর্মী ছিলেন।
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কান্দিপাড়ায় গুলিতে তিনি নিহত হন। একই স্থানে গুলিতে নাজমুল হোসেন টুটুল, শিহাব উদ্দিন, সাঞ্জু মিয়া নামে তিনজন আহত হন।
আহত টুটুল জানান, তিনি চা পান করার সময় শাকিল নামে একজন এসে হঠাৎ করে গুলি করে। স্থানীয় লোকজন তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। তিনি শাকিলের বিরুদ্ধে অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।
আহত শিহাব জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ওপর গুলি লাগে। কি হয়েছে জানতে চাওয়া মাত্র এক যুবক আবারও তাকে গুলি করতে উদ্যত হয়।
এদিকে সাদ্দামের বাবা মস্তু মিয়াসহ পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, রাত ১টার দিকে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপ নামে এক ব্যক্তি ও তার লোকজন। এর কিছুক্ষণ পরই সাদ্দামকে গুলি করে ফেলে রাখার খবর পাওয়া যায়।
সন্ধ্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।
তবে দেলোয়ার হোসেন দিলীপ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। সন্ধ্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা কোথাও আছে—এমন খোঁজ করার সময় হঠাৎ গুলি ছোড়া হয়। তখন সাদ্দামও আমাদের সঙ্গে ছিল।
একটু পরে দেখি সাদ্দামের ওপর গুলি লাগে। এখন সাদ্দামের পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদারও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, একটি পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিরোধে সন্ধ্যায় গুলির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মূলত চোরাচালান পণ্য নিয়ে বিরোধের জেরে এসব ঘটনা ঘটেছে। ভারত থেকে আনা মোবাইল ফোন ডিসপ্লে একটি পক্ষ আটকে দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে উত্তেজনা থেকে গুলির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক গুলির ঘটনার তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে পারস্পরিকভাবে তিনি জানতে পেরেছেন। কিভাবে কি ঘটেছে সেটা জানার চেষ্টা চলছে। মূলত দিলীপ ও শাকিলের মধ্যে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন। এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।