অগ্রহায়ণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হিমালয়ের পাদদেশের জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে শীত। দিনভর গরম থাকলেও সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত হালকা কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি। রাতে মৃদু শীত শীত ভাব বলে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। রাতে সব বয়সী মানুষের শরীরে লেপ কিংবা হালকা কম্বল জড়াতে হচ্ছে।
ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার দেখা মিলছে। ঘাসের ডগায়, ধানের পাতায় জমছে শিশির বিন্দু। ভোরে কুয়াশার সিগ্ধতায় এখন এক অন্য রকম প্রকৃতি দিনাজপুরে।
দিনাজপুর সদর শহরের মুদিপাড়ার বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন ভোরে ফজরের নামাজের পর রাস্তায় হাঁটি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে ভোরবেলা কুয়াশা লক্ষ করা যাচ্ছে। পাশাপাশি রাতে কম্বল বা লেপ ঢাকা নিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে গরমের কাপড় পরে চলাফেরা করতে হচ্ছে।’
বিরল উপজেলার তেঘরা গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘সারা দিন রোদের কারণে সাধারণ পোশাক পরে চলাফেরা করতে পারি। কিন্তু সন্ধ্যার আগে সোয়েটার বা জ্যাকেট পরতে হয়।
রাত গভীর হলে ঠান্ডা একটু বেশি লাগে। রাতে লেপ বা কম্বল ঢাকা নিয়ে ঘুমাতে হয়। আবহাওয়া দেখে মনে হচ্ছে দিন যত যাচ্ছে ঠান্ডার মাত্রা তত বাড়ছে।’
বিরল উপজেলার তেঘড়া গ্রামের সাবিনা বেগম বলেন, ‘প্রতি বছর আমি ৮ থেকে ১০টি কাঁথা সেলাই করি। শীত আসার আগে শহরের অনেক পরিবার আমাকে কাঁথা সেলাই করার জন্য বলে। আমি তাদের কাঁথা সেলাই করে দিই। এতে আমার কিছুটা আর্থিক লাভ হয়। আমার দেখাদেখি এ এলাকার কয়েকজন নারী কাঁথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছেন।’
প্রকৃতির এই পরিবর্তনে শীতের আগমনীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শীত নিবারণে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা।
শীত জেঁকে বসার আগেই শীত নিবারণে ওইসব লেপ-তোষক তৈরির দোকানে ভিড় করছে সাধারণ মানুষ। অনেকে শীত নিবারণের জন্য হালকা কাঁথা ও কম্বল ব্যবহার শুরু করেছে। লেপ-তোষক দোকানদাররা জানান, শীত মৌসুমে প্রতি দোকানে প্রায় ১০০ থেকে ২৫০টি লেপ-তোষক ও জাজিম কেনাবেচা হয়।
ব্যবসায়ীরা জানায়, শীতের আগমনীর সঙ্গে দিনাজপুরের বিভিন্ন লেপ-তোষক কারিগর ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে। দিনাজপুর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার ছোট-বড় হাট-বাজারগুলোয় জাজিম, বালিশ, লেপ, তোষক তৈরি ও বিক্রির কাজে শতাধিক কারিগর ও ব্যবসায়ী নিয়োজিত। এবার ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা একটি লেপ-তৈরিতে খরচ হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর লেপ-তোষকের দাম একটু বেশি। কেননা এ বছর কাপড় ও তুলা বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে বলে জানান তারা।
এদিকে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দিনাজপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া উত্তরের জেলা পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি, নওগাঁর বদলগাছিতে ১৪ ডিগ্রি, পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি, চুয়াডাঙ্গায় ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১৫ ডিগ্রি, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে ১৫ দশমিক ১ ডিগ্রি, ডিমলায় ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি, বগুড়ায় ১৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। গত বছর এই জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এ বছর তাপমাত্রা ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার আশঙ্কা করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিসেম্বরের শুরুতে একটি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।’