অন্যের জন্য দোয়া করলে ফজলিত

অন্যের খুশি, আনন্দে অংশ নেওয়া, বিপদ-আপদে এগিয়ে যাওয়া, সহানুভূতি প্রকাশ করা একজন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 

 اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ اِخۡوَۃٌ فَاَصۡلِحُوۡا بَیۡنَ اَخَوَیۡكُمۡ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ  ۰

‘মুমিনগণ তো পরস্পর ভাই ভাই। কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপোষ মীমাংসা করে দাও। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।’ -(সুরা হুজরাত : আয়াত ১০)

অন্যের জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারা বলেন, হে আল্লাহ এ দোয়াটি আগে দোয়াকারীর জন্য কবুল করুন। অন্য ফেরেশতারা আমিন বলেন। ফেরেশতাদের কোনো গুনাহ নেই। তারা যে দোয়া করেন, সেটাই কবুল হয়। তাই অন্যের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ সেটা সর্বপ্রথম আপনাকেই দান করবেন।

এজন্য অন্যের জন্য দোয়ার বিকল্প নেই। ধরেন আপনার মোটামুটি পরিচিত একজন বন্ধু, অনেক দিন বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, হঠাৎ আপনি জানতে পারলেন, তার বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে গেছে, আপনি মনে মনে বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! হে আল্লাহ আপনি তাকে সহি সালামতে রাখুন। সঙ্গে সঙ্গে আপনার পাশে থাকা ফেরেশতা বলে উঠলো, আমিন, তোমার জন্যও এমনটাই হোক। এভাবেই ফেরেশতারা দোয়া করেন।

একটি হাদিসে আছে, হজরত সাফওয়ান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 

অপরের জন্য দোয়া করার মধ্যে শুধু ওই ব্যক্তিরই কল্যাণ নয় বরং যে তার জন্য দোয়া করছেন তাকেও আল্লাহ সে রকম দান করবেন। বরং তার দোয়াটা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। কেননা সে যখন অপরের জন্য দোয়া করবে তখন একজন ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করবে। আর ফেরেশতার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
 
অন্যের জন্য দোয়া করার বিষয়ে কুরআনেও গুরুত্বারূপ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, 

  
وَ الَّذِیۡنَ جَآءُوۡ مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَ لِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَ لَا تَجۡعَلۡ فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا                                             

رَبَّنَاۤ اِنَّكَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ  

                                                        
তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, ক্ষমা করো আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদেরও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোনো হিংসা-বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু। (সুরা হাশর ১০)

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, নবী কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা যা পছন্দ করো, তা অন্য ভাইয়ের জন্যও পছন্দ করবে। আরও বর্ণনায় আছে, প্রতিবেশীর জন্যও পছন্দ করবে।’ (সহিহ মুসলিম : ৭৪)

এ জন্য বুদ্ধিমানরা নিজের একান্ত কোনো প্রয়োজনের ক্ষেত্রে হলে ওই জিনিস অন্যের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে থাকে। তখন আল্লাহ তার সেই প্রয়োজন পূরণ করে দেন।