গাজীপুরে আইনজীবী সমিতির হলরুমে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি’র আত্মঘাতী বোমা হামলার ২০তম বার্ষিকী দিনব্যাপী নানা কর্মসুচির মাধ্যমে পালন করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষ্যে রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গণে বোমা হামালায় শহিদদের স্বরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মৃতি শিখা অনির্বাণ’ এ আইনজীবি সমিতি ও গাজীপুর জজশিপের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
পরে শহীদ আইনজীবীদের স্মরণে ও আহত আইনজীবীদের সুস্থ্যতা কামনা করে আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল করা হয়। গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শমসুল হক ভূইয়ার সভাপতিত্বে শোকসভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির সাবেক সভাপতি মো. সুলতান উদ্দীন আহমদ, মো. আব্দুস সোবহান, দেওয়ান আবুল কাশেম, ড. শহীদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান কামাল, অ্যাডভোকেট নাদিরা বেগম প্রমুখ। পরে আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গন থেকে একটি শোকর্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে শেষ হয়। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন ও কালোব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ২নং হলরুমে জেএমবি’র আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৫ আইনজীবী, ৪ বিচারপ্রার্থী ও এক আত্মঘাতী হামলাকারীসহ ১০জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়। নৃশংস ওই বোমা হামলায় নিহত আইনজীবীরা হলেন- আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিম, অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা, অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক অভি ও অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন মাখন। নিহত বিচারপ্রার্থীরা হলেন- আব্দুর রউফ, বশির মেম্বার, শামসুল হক ও মর্জিনা বেগম। আত্মঘাতী জঙ্গির নাম শরিয়ত উল্লাহ ওরফে আসাদুল ইসলাম।
এর দুই দিন পর ১ ডিসেম্বর দুপুরে আবারো জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে জেএমবি’র এক সদস্য আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। এতে কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম সরকার নিহত এবং সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম, বেলাল হোসেন, নজরুল ইসলাম বাদামীসহ ২৫ জন আহত হন।