চার দাবিতে আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে এবার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। কর্মবিরতির অংশ হিসেবে তারা চলমান বার্ষিক পরীক্ষাও বন্ধ রাখবেন। বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
দাবিগুলো হলো 'সহকারী শিক্ষক' পদটি ৯ম গ্রেডে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত করে দ্রুত 'মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর' এর গেজেট প্রকাশ, বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্যপদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রদান এবং ২০১৫ সালের আগের মতো সহকারী শিক্ষকদের দুই থেকে তিনটি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ।
সমিতির একজন শিক্ষক নেতা জানিয়েছেন, সরকার যদি তাদের দাবি পূরণ করে তাহলে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো নেবেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করবেন। কিন্তু দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতি চলবে।
শিক্ষক নেতারা জানান, দীর্ঘ ৫০ বছরের বঞ্চনা, পদসোপানজনিত বৈষম্য এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে চার দফা দাবিতে দীর্ঘদিন কর্মসূচি করছেন তারা। এবার মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকরা কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটছেন। দাবিগুলো পূরণ করা না হলে তারা কর্মবিরতিতে যাবেন। এ কর্মসূচির অধীনে চলমান বার্ষিক পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শন, খাতা মূল্যায়ন, ফলাফল প্রস্তুতকরণ ও নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম বর্জন করা হবে।
এ বিষয়ে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের পেশাগত মর্যাদা ও বেতন-ভাতা সংক্রান্ত চার দফা দাবির বিষয়ে রবিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে শিক্ষকেরা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু দাবিগুলো না মানায় আগামীকাল থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন।