কক্সবাজার শহরে বিউটি পার্লার থেকে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা ১২টার দিকে শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়কের ঝিমি’স মেকওভার এন্ড বিউটি সেলুন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ভিতর থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার সদর থানার ওসি ইলিয়াছ খান।
মৃত নাদিয়া ইসলাম ঝিমি (২৫) কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার জাফর আলমের মেয়ে। তিনি শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকায় ঝিমি মেকওভার সহ দুই বিউটি পার্লার প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নাদিয়ার স্বামী মোহাম্মদ ইয়াসিনের বাড়ি শহরের টেকপাড়া এলাকার কামাল ম্যানশনে। গত প্রায় বছরখানেক আগে স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার খবর জানতে পারেন তিনি। পরে অভিমান করে নাদিয়া বাপের বাড়ি চলে আসেন।
নাদিয়ার বাবা জাফর আলম বলেন, রোববার বিকাল ৩ টার দিকে নাদিয়া ইসলাম ঝিমি নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজের কথা জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি প্রতিদিন রাতে কাজ শেষ করে বাসায় ফিরলেও রবিবার ফিরেনি। মাঝে মধ্যে কাজের চাপ থাকলে রাতে বাসায় ফিরত না। রোববার রাত ১১ টার দিকেও বাসার লোকজনের সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। ওইসময় কাজ থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিল বলেও জানায়।
জাফর আলম জানান, সোমবার সকালেও নাদিয়া বাসায় না ফেরায় বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্যরা একাধিক কল দিয়ে কথা বলার চেষ্টা চালায়। কিন্তু কোন সাড়া না পাওয়ায় খোঁজ নিতে মেয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। এ সময় ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় নানাভাবে ডাকাডাকি করেন। এতে মেয়ের সাড়াশব্দ না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেন। এসময় নাদিয়াকে সিলিংয়ের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তিনি ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করা হয়।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি ইলিয়াছ খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ঘটনার তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সহ রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
বিকালে মৃতদেহটি ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ওসি ইলিয়াছ খান।