১৮ বছরের বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলে ‘নম্বর–১০’। সিলভার বল জয়ী লামিন ইয়ামাল এখন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ ফুটবলারদের একজন। আলো, ক্যামেরা, প্রত্যাশা—কিছুই তাকে ভাবায় না। বরং এসব উপভোগ করেন তিনি। সিবিএস–কে দেওয়া এক বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল খুলে বলেছেন তার মানসিকতা, যাত্রা ও লক্ষ্য সম্পর্কে।
শৈশবে মেসির ড্রিবলিংয়ের চেয়ে তার অ্যাসিস্ট তাকে বেশি টানত লামিন ইয়ামালকে। লুকা মদ্রিচের আউটসাইড–দ্য–বুট পাসও তাকে মুগ্ধ করত। মেসিকে “ইতিহাসের সেরা” মনে করেন তিনি। তবে ইয়ামাল স্পষ্ট করে বলেন, তিনি মেসি হতে চান না। ‘নম্বর–১০’ তিনি পরেন নিজের পরিচয়ের জন্য, কারও অনুকরণে নয়। তিনি চান নিজের পথ, নিজের ধারা, নিজের পরিচয়। “মেসি যেমন, ফুটবলের জন্য যা করেছেন সে জন্য আমি তাকে সম্মান করি। আর যদি কোনো দিন মাঠে আমাদের দেখা হয়, সেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকবে। তিনি ইতিহাসের সেরা। আমরা দু’জনই জানি, আমি মেসি হতে চাই না, আর মেসিও জানেন যে আমি তাকে অনুকরণ করতে চাই না। আমি শুধু নিজের পথেই হাঁটতে চাই—এটাই সত্য।”
ইয়ামালের কথায়, ফুটবল খেলতে গিয়ে তিনি কখনোই চাপ অনুভব করেননি। তার কাছে আসল চাপ ছিল বাবা–মায়ের জীবনের সংগ্রাম—পরিবার চালানো, প্রতিদিনের লড়াই। তাই মাঠে পা রাখলেই তিনি শুধু উপভোগ করতে চান খেলা। “তারকা বলা হলে খারাপ লাগে?”—প্রশ্নে তার নির্দ্বিধা উত্তর, “না। বরং ভালোই লাগে।”
অনেকে মনে করেন, ইয়ামাল হয়তো খুব দ্রুত এগোচ্ছেন। কিন্তু তিনি যুক্তি দেন, “যদি আপনার কাজে উন্নতি আসে, আপনি কি না করবেন?” তার কাছে এটা ত্বরান্বিত হওয়ার বিষয় নয়; বরং প্রস্তুত থাকার ব্যাপার।
প্রত্যাশা নিয়েও তার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। তার মতে, প্রত্যাশা কখনো ভালো নয়—পূরণ হলে আর কিছু বাকি থাকে না, পূরণ না হলে চাপ বাড়ে। তাই নিজের প্রতি অগাধ আস্থা নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি, “আমি জানি, যা চাই তা অর্জন করতে পারব।”
মাঠে নেমে তিনি ভাবেন না কত গোল করবেন বা কত অ্যাসিস্ট দেবেন। তার চিন্তা থাকে—গতকাল যা শিখেছেন, তা প্রয়োগ করা; খেলা উপভোগ করা; টিমমেটদের সঙ্গে মজা করে খেলা। তার প্রকৃত লক্ষ্য হলো অনুপ্রেরণা দেওয়া—“আমি চাই বাচ্চারা আমাকে দেখে ফুটবল খেলতে উৎসাহিত হোক। চাই কেউ দুঃখ নিয়ে মাঠে এসে আমার খেলা দেখে একটু হাসি নিয়ে বাড়ি ফিরুক।”
নম্র পরিবেশে বেড়ে ওঠা ইয়ামাল জানেন জীবনের বাস্তবতা। তার ভাষায়, কোনো ম্যাচ খারাপ গেলেও তিনি কখনো ভেঙে পড়েন না। বরং ভাবেন পরদিন আরও ভালো করবেন।
তিন জন ডিফেন্ডার সামনে থাকলেও ড্রিবল করতে পিছপা হন না। কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন বল হারাবেন না। এটাই তার স্বভাব—ঝুঁকি নেওয়া, প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করা, দর্শকদের জন্য শো করা।
আত্মবিশ্বাস, বিনয়, স্বতঃস্ফূর্ততা—সব মিলিয়ে লামিন ইয়ামাল ফুটবলের এক নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি। লাইমলাইটকে ভয় পান না, চাপকে গুরুত্ব দেন না, আর খেলাকে দেখেন আনন্দ হিসেবে।
“খেলো, উপভোগ করো, আর মানুষের মনে ফুটবলের আনন্দ ফিরিয়ে দাও।”