প্রায় এক বছর ধরে কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর ইউনিয়নের সোনাকান্দা গ্রামের মাদকাসক্ত সোহাগ (২৭) এবং পার্শ্ববর্তী তারানগর ইউনিয়নের কাঠালতলী গ্রামের দুই সন্তানের জননী আছিয়া আক্তার মায়ার মধ্যে সম্পর্ক চলছিল। ফার্নিচার মিস্ত্রি সোহাগের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন আছিয়া।
পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে চলে তাদের অবৈধ মেলামেশা।
অভিভাবকহীন সোহাগের পক্ষ থেকে বাধা না থাকায় আছিয়া ছেলে-মেয়ে, স্বামী ও বাবা-মার অগোচরে প্রায়ই যেতেন সোহাগের সোনাকান্দার জরাজীর্ণ ভাঙাচোরা বাসায়।
আছিয়ার মায়ের অভিযোগ, গত ৫-৭ মাসে আছিয়ার কাছ থেকে সোহাগ ৪ লাখ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে নিয়েছে। তাদের দাবি—সোহাগ যাদু-টোনা করে এসব করিয়েছে।
আছিয়ার ছেলে মিরহাদ জানায়, গত রবিবার বেলা ১১টার দিকে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তার মা। রাত সাড়ে নয়টার দিকে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে আছিয়ার মামানি কুলসুমের কাছে। সোহাগের বোন আফসা ফোনে জানান, সোহাগ আছিয়াকে বেধড়ক মারধর করেছে এবং সে মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের বাড়িতে পড়ে আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সোহাগের বোনই ভাইকে ঘরে আটকে রেখে আছিয়াকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টার দিকে আছিয়া মারা যান। পরে আছিয়ার মা রাহাতুন নেসা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে লাশ কেরানীগঞ্জের কাঠালতলীর বাসায় নিয়ে আসেন।
সোহাগের বোনের অভিযোগ, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আছিয়ার পরিবারকে ফোন করা হলেও তারা দ্রুত আসেননি। তারা মেয়েকে ‘খারাপ’ ভেবে দায়িত্ব নিতে চাননি। তারা সঙ্গে সঙ্গে এলে হয়তো আছিয়াকে বাঁচানো যেতো।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল হক ডাবলু জানান, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঘাতক সোহাগকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সে। সোহাগ দাবি করেছে, আছিয়া তার স্ত্রী এবং দুই মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু আছিয়া তার প্রথম স্বামীকে তালাক দিতে রাজি না হওয়ায় কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে সোহাগ তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।