খুলনায় মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে দুজনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে এমনটি দাবি করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি তারা। এ ঘটনায় নিহত দুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়েরও করা হয়নি।
খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডে জড়িতদের মধ্যে ৫ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আদালত চত্বর ও এর আশপাশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করা হয়। আমরা তাদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছি। খুব শিগগির ভালো খবর দিতে পারব।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মামলা করার জন্য বলা হয়েছে। তবে তারা সম্ভবত নানা আশঙ্কায় মামলা করতে রাজি হচ্ছে না। এ জন্য পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ওসি বলেন, এই মার্ডারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা গেলেও তারা শহরের বাসিন্দা নন। শহর লাগেয়া রূপসা উপজেলায় তাদের স্থায়ী নিবাস। এ ছাড়াও দুজন শহরে বাড়ি ভাড়া করে থাকেন। সেখানে পরিবার থাকলেও তারা কেউ বাড়িতে অবস্থান নেয় না। এরা কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। সবাই ইন্টারনেটের বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে। যেসব অ্যাপসগুলোর একসেস সুযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কম। ফলে অপরাধীরা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে সহজেই। তাদেও গ্রেপ্তারে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এদিকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ফজলে রাব্বী রাজনের পিতা এজাজ শেখ অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, আমার একমাত্র ছেলে রাজন। সঙ্গদোষে বখে গিয়েছিল। তাই বলে তাকে খুন করতে হবে। আমি মামলা করতে চাই না। কার বিরুদ্ধে মামলা করব। কারা খুন করেছে পুলিশ সব জানে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করুক। আমি মামলা করব না।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাদক সম্রাট পলাশ বাহিনীর বেশির ভাগ সদস্য বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। এই বাহিনীর সদস্যদের অন্যতম ছিল ফজলে রাব্বী রাজন ও হাসিব হাওলাদার। তারা বাইরে থেকে অবৈধ মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও পলাশবাহিনীকে সুসংগঠিত করছিল। ফলে তাদের প্রতিপক্ষ রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবু গ্রুপের সদস্যরা নিজেদের জীবনের হুমকি হিসেবে দেখছিল। এ কারণেই প্রকাশ্যে রাজন ও হাসিবকে হত্যা করে মাদক সম্রাট গ্রেনেড বাবুর সদস্যরা।
সূত্রটি জানায়, রাজন ও হাসিব আদালতে অস্ত্রবিহীন হাজিরে দিতে আসবে জেনেই ওই দিনটিকেই বেছে নেয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ। কিলার গ্রুপের সদস্যরা রূপসা নদী পার হয়ে এসেছিল বলে নিশ্চিত করে পুলিশ সূত্র।
খুলনা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি সূত্র জানায়, কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিল ৬ জন। তাদের কাছে ছিল ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল। এর বাইরে ৫ থেকে ৭ জনের একটি টিম ছিল যারা গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করেছে।