যশোরে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেনা ১২ জন শিক্ষার্থী 

যশোর ইন্সটিটিউট অব নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজে ১২ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে । 
শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা ফরম পূরণ করলেও বোর্ডের পরীক্ষার্থীর তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অন্যদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, টাকা বকেয়া থাকায় ১১ জনের ফরম পূরণ হয়নি, তবে এক জনের ক্ষেত্রে ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কলেজে প্রথমবর্ষে ১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন, দ্বিতীয় বর্ষে ৭৪ জনের মধ্যে ২ জন ও তৃতীয় বর্ষে ৭৯ জনের মধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থী আগামী বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না। বাদ পড়া শিক্ষার্থীরা এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার দিনব্যাপী কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। 

সূত্র জানায়, কলেজটি তিন বছর মেয়াদী প্রতি কোর্সে ছাত্রীদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ও ছাত্রদের কাছ থেকে ২ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। অধ্যয়নরত অবস্থায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মেয়াদে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই টাকা নিয়ে থাকেন। তবে বেশিরভাগ সময় শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টার পরীক্ষার আগেই মোটা অংকের টাকা পরিশোধ করেন। সাধারণত, প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্ষেত্রে টাকা বকেয়া থাকলেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এদের ক্ষেত্রে সে সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ লস্কর জানান, এ প্রতিষ্ঠানে তার কাছে মাত্র ৮ হাজার টাকা পাবে। এছাড়া কোর্সের সকল টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন। ফরম পূরণের আগেও তিনি টাকা নিয়েছেন। আর বাদবাকি টাকা সার্টিফিকেট নেওয়ার সময় দেবার কথা ছিলো। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ফরম পূরণ করেনি। সোমবার প্রবেশপত্র নিতে আসলে তাকে জানানো হয়েছে, টাকা বাকি থাকায় এ বছর সে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেনা। কিন্তু তার কাছে কলেজ থেকে ফোন করে কেউ বাকি টাকা চায়নি। সামান্য টাকার জন্য তার এক সেমিস্টার নষ্ট হয়ে গেলো। 

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হুমাইরা ও সীমা জানান, তাদের কাছে প্রতিষ্ঠান একটি টাকাও পাবেনা। কিন্তু তারপরও তাদের প্রবেশ পত্র আসেনি। প্রতিষ্ঠানের ভুলে তাদের একটি সেমিস্টার নষ্ট হয়ে গেছে। আগামী ৭ ডিসেম্বরের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ না করতে পারলে তারা কলেজের বিপক্ষে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন। তাদের কি সমস্যা জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠান প্রধান আকরাম হোসেন সদুত্তর দিতে পারনেনি।

আর অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন বলেন, ‘কারও সঙ্গে প্রতারণা করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন থাকায় ফরম ফিলাপ করা হয়নি। তবে, এক শিক্ষার্থীর বিষয়ে ত্রুটি স্বীকার করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের ভুলেই ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না।