ইংল্যান্ড ক্রিকেটের কিংবদন্তি ব্যাটার রবিন স্মিথ আর নেই। অস্ট্রেলিয়ায় নিজের বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন সোমবার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। পরিবার জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ এখনো অজানা।
১৯৮০ ও ৯০–এর দশকে বিশ্বের সেরা ফাস্ট বোলারদের মুখোমুখি হয়ে দুর্দান্ত লড়াইয়ের জন্য স্মিথ ছিলেন সমাদৃত। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ৬২টি টেস্ট খেলেছেন তিনি, যেখানে তাঁর সংগ্রহ ৪২৩৬ রান, গড় ৪৩.৬৭। করেছেন নয়টি সেঞ্চুরি—এর তিনটিই এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, যে দলের বিপক্ষে তাঁর লড়াকু মনোভাব যেন আরও ধারালো হয়ে উঠত।
সামনের পায়ে দাঁড়িয়ে স্কয়ার কাট—এই শটটাই ছিল তাঁর ট্রেডমার্ক, যা তাঁকে বিশ্ব ক্রিকেটে ভয়ংকর এক ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৯০ সালে ক্যারিবীয় সফরে জ্যামাইকার প্রথম টেস্ট জয়ে স্মিথ ছিলেন ইংল্যান্ডের অন্যতম নায়ক। ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা দুইটি ২-২ ড্র সিরিজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
১৯৯৩ সালে এজবাস্টনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একদিনের ম্যাচে স্মিথ খেলেছিলেন ১৬৭* রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস—যা পরের ২৩ বছর ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস ছিল ২০১৬ সালে অ্যালেক্স হেলস ভাঙার আগে পর্যন্ত।
তবে স্পিনের বিপক্ষে দুর্বলতা তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিশেষ করে ১৯৯৩ অ্যাশেজে শেন ওয়ার্নের সাফল্যের পর ইংল্যান্ডের পরের অস্ট্রেলিয়া সফরের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি স্মিথের। অথচ পরবর্তীতে স্মিথ ও ওয়ার্ন হয়ে ওঠেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু—এমনকি ওয়ার্নের হ্যাম্পশায়ারে যোগ দেওয়ার পেছনেও ভূমিকা ছিল এই বন্ধুত্বের।
১৯৬৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্ম নেওয়া স্মিথ ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। বাবা ঘরের আঙিনায় বিশেষ নেট তৈরি করেছিলেন, যেখানে ব্যারি রিচার্ডস ও মাইক প্রোক্টরও অনুশীলন সঙ্গী ছিলেন। রিচার্ডসের হ্যাম্পশায়ার-সংযোগেই স্মিথ ভাইদের ইংল্যান্ডে সুযোগ তৈরি হয়। বড় ভাই ক্রিসও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন, তবে রবিন স্মিথের ১৯৮৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেডিংলিতে অভিষেকই ছিল বেশি আলোচিত।
৩২ বছর বয়সেই শেষ টেস্ট খেলেন স্মিথ—১৯৯৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউনে। ১-০ সিরিজ হারে ব্যর্থ ইংল্যান্ড দলে তখন নতুন প্রজন্ম গড়ার উদ্যোগে তাকে বাদ দেওয়া হয়। অথচ তাঁর ব্যাটিং গড় সে সময়কারদের মধ্যে শুধু ডেভিড গাওয়ার ও গ্রাহাম থর্পের পরেই ছিল।
অবসরের পর স্মিথ মদাসক্তির সঙ্গে লড়াই করেছেন দীর্ঘদিন। তাঁর আত্মজীবনী দা জাজ: মোর দ্যান জাস্ট এ গেম-এ সেই সংগ্রামের কথা উঠে এসেছে। কেবল গত সপ্তাহেই তিনি পার্থে অ্যাশেজ টেস্টে উপস্থিত ছিলেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে নিজেকে পুনর্বাসনের কথা শেয়ার করেছিলেন।