ছেষট্টিতেও চপলা জুলিয়ান মুর!

অস্কারসহ বিশ্ব চলচ্চিত্রের সব মর্যাদাকর পুরস্কার একাধিকবার নিজের ঝুলিতে ভরেছেন। হলিউডের নামজাদা এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের নাম জুলিয়ান মুর। আজ এই অভিনেত্রী পা রাখলেন জীবনের ৬৬তম বছরে। ১৯৬০ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী, প্রযোজক ও লেখক। তার আসল নাম জুলি অ্যান স্মিথ। তবে বয়স ৬৬ স্পর্শ করলেও এখনো যেন কিশোরীই রয়ে গেছেন তিনি। তার সর্বশেষ প্রমাণ পাওয়া যায় চলতি বছর অস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে। ৮৭তম অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর নাম ঘোষণার পর জুলিয়ান মুরকে দর্শক সারিতে বসে হাততালি দিতে হয়নি। অস্কার-মূর্তি হাতে নিয়ে মঞ্চে কৌতুক করার সুযোগও ছাড়েননি জুলিয়ান। বলেছেন, ‘একটা প্রবন্ধে পড়েছিলাম, অস্কার পেলে নাকি মানুষের আয়ু বাড়ে। একাডেমি অ্যাওয়ার্ডকে ধন্যবাদ আমাকে এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য, কারণ আমার স্বামী আমার চেয়ে বয়সে ছোট!’

 পুরস্কার হাতে অনুভূতি বর্ণনার সময় কিংবা অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে জুলিয়ান মুরকে দেখাচ্ছিল চপল কিশোরীর মতোই! মুখ থেকে আর উচ্ছল হাসি যেন কিছুতেই সরছিল না। ‘স্টিল অ্যালিস’ ছবির যে চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার পান, সেই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রই ছিল তার। মুরের চরিত্র নাম ছিল ড. অ্যালিস; যিনি ছিলেন হল্যান্ডের ৫০ বছর বয়সী একজন অধ্যাপক।

বাবার বদলির চাকরি, সে সুবাদে দশম শ্রেণি পেরোনোর আগেই ৯বার স্কুল বদল করতে হয় জুলিয়ান মুরকে। এমন রোমাঞ্চকর স্কুল জীবনেও জুলিয়ান মুখ গোমড়া করে থাকতেন। কারণ, তার মুখে ছিল মেছতার দাগ। স্কুলে ছেলেমেয়েরা ‘ফ্রেকেলফেস স্ট্রবেরি’ (স্ট্রবেরির মতো ছোপ ছোপ দাগ আছে যার মুখে) বলে খ্যাপাত। একসময় বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিয়েটার বিষয়ে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে কাজ করেছেন রেস্তোরাঁর খাবার পরিবেশক হিসেবে। টিভি সিরিজ আর চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পান, কিন্তু ওপরে ওঠার সিঁড়িটা পেতে সময় লেগেছে অনেক। শিশুসাহিত্যিক হিসেবেও তার সুনাম কম নয়।