বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অভ্যন্তরে ‘তেলসমতি’ সংক্রান্ত এক অস্বাভাবিক প্রশাসনিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কাজ ভাগাভাগির বিষয়টি স্পষ্ট থাকলেও বর্তমানে অর্থ বিভাগের দায়িত্ব পালন করছে পরিকল্পনা বিভাগ, যা প্রতিষ্ঠানটিতে আগে কখনোই ঘটেনি বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, সাধারণত অর্থ বিভাগের যে দায়িত্ব পালন করে থাকে এবার সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মনিটরিং বিভাগ। বেবিচকের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি এর আগে কখনো ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, কর্তৃপক্ষের নিজস্ব, জিওবি ও পিএ-অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়নমূলক এবং মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের এ্যানুয়াল প্রকিউরমেন্ট প্ল্যান (এপিপি) সাধারণত পরিকল্পনা বিভাগ থেকে প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু প্রতি বছর বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাঠানো প্রস্তাবিত কাজসমূহ বাজেটে সঠিকভাবে প্রতিফলিত না হওয়ায় এপিপি প্রস্তুতে বিলম্ব ঘটে।
এই প্রেক্ষাপটে এপিপি প্রণয়ন প্রক্রিয়া সহজ করতে পরিকল্পনা বিভাগই এবার বাজেট সমন্বয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্তযোগ্য সকল উন্নয়ন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের তালিকা নির্ধারিত ছক মোতাবেক আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর)-এর মধ্যে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মনিটরিং বিভাগে পাঠাতে হবে।
বেবিচকের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, অর্থ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিকল্পনা বিভাগে যেন এক তেলসমতি কান্ড এতে করে বিভিন্ন আর্থিক যাচাই-বাছাইয়ে অস্বচ্ছতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।