আগামী গ্রীষ্মে যে স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, তার আশপাশ থেকে পাওয়া গেল শত শত ব্যাগে ভরা মানবদেহের অংশ। মেক্সিকোর জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের আক্রোন স্টেডিয়ামের আশেপাশে এখন পর্যন্ত ৪৫৬ ব্যাগ মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা–মেক্সিকো যৌথভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। চারটি গ্রুপ ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত আক্রোন স্টেডিয়ামে খেলবে স্বাগতিক মেক্সিকোও। মার্চে এখানেই অনুষ্ঠিত হবে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ম্যাচ।
স্থানীয় অনুসন্ধানী সংগঠনের সদস্য হোসে রাউল সারভিন গার্সিয়া জানিয়েছেন, নতুন একটি আবাসন প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলাকালেই সর্বশেষ মানবদেহের অংশগুলো পাওয়া যায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা লাস আগুয়াস, যেখানে একাই ২৯০ ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে। জাপোপান ও ত্লাকেপাকেতেও একই ধরনের সন্ধান মিলেছে।
জালিস্কো অঙ্গরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই মেক্সিকোর সবচেয়ে সহিংস অঞ্চলগুলোর একটি। এখানেই সক্রিয় বলশালী অপরাধচক্র হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দেশজুড়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে, যার বড় অংশই এ রাজ্যের।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জালিস্কোতে নিখোঁজ হন ৭,৩৭৬ জন। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালে আরও ৯,৫৯৩ জনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে—যা পরিস্থিতির অবনতিরই ইঙ্গিত দেয়।
অবস্থার অবনতি হওয়ায় আক্রোন স্টেডিয়ামকে বিশ্বকাপ ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত রাখা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা। এদিকে স্থানীয় সরকার বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩,০০০ নতুন সিসিটিভি, সাঁজোয়া যান, মেটাল ডিটেক্টর এবং ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে।
অনুসন্ধানী সদস্য সারভিন গার্সিয়া হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে এত লাশের সন্ধান মিলছে, সেখানে বিশ্বকাপ আয়োজন সত্যিই বেদনাদায়ক।”