খুলনা–১ আসনের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী কৃষ্ণ নন্দী। দেশের রাজনীতিতে বিরল এই ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রথমবারের মতো এই আসনে হিন্দু প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদপোর্টালে গত কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন কৃষ্ণ নন্দী।
তিনি ডুমুরিয়ার সনাতনী শাখার সভাপতি। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি অনেকেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত এই গুঞ্জনই সত্যি প্রমাণিত হলো।
জামায়াত তাদের পূর্বঘোষিত প্রার্থী মাওলানা আবু ইউসুফকে সরিয়ে কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দিয়েছে।
গতকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জামায়াতের আমীর ও সেক্রেটারীর সঙ্গে কৃষ্ণ নন্দীর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
ত্রিয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত। সেই উত্তাপের মধ্যে কৃষ্ণ নন্দীর প্রার্থী হওয়ার ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অনেকেই এটি দলের কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন এটি নির্বাচনী এলাকায় নতুন ধরনের সামাজিক মেরুকরণ তৈরির চেষ্টা।
খুলনা–১ (বটিয়াঘাটা–দাকোপ) এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী বসবাস করেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে হিন্দু ভোটব্যাংক বড় ভূমিকা রাখে, এবং সেই বাস্তবতাকেই কাজে লাগাতে চাইছে জামায়াত।
প্রার্থী ঘোষণার পর কৃষ্ণ নন্দী জানিয়েছেন, “দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে আগেই ইঙ্গিত পেয়েছিলাম। এখন দল আমাকে মনোনীত করেছে, আমি আত্মবিশ্বাসী যে সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়ে জয় এনে দিতে পারবো। বটিয়াঘাটা–দাকোপে অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার আছেন। তাদের আস্থা ও সমর্থনই হবে আমার শক্তি।”
জামায়াতের মতো ধর্মীয় রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত দলকে লক্ষ্য করে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, হিন্দু প্রার্থী ঘোষণাকে তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বহুত্ববাদী রাজনীতির নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
গত ডিসেম্বরে জামায়াতে ইসলামী সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছিল, যেখানে খুলনা–১ আসনে মনোনীত ছিলেন মাওলানা আবু ইউসুফ। অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে তাকে পরীক্ষিত ধরা হতো। এক বছর পর দল তাকে সরিয়ে কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মাওলানা আবু ইউসুফ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, “দল আমাকে সরিয়ে কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করেছে। আমি এটিকে সাধুবাদ জানাই।” দলীয় নেতারা এটিকে দলের শৃঙ্খলার পরিচায়ক হিসেবে দেখছেন।
খুলনা জেলা জামায়াতের সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচনী বাস্তবতায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অনেকের মধ্যে রয়েছে বিস্ময়, কৌতূহল এবং উদ্বেগ। কেউ বলছেন এটি সাহসী সিদ্ধান্ত, আবার কেউ মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে তারা দেখতে আগ্রহী জামায়াত কতটা গ্রহণযোগ্য হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বী কৃষ্ণ নন্দীকে জামায়াতের প্রার্থী করা খুলনা–১ আসনের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি কি কেবল রাজনৈতিক কৌশল, নাকি ভবিষ্যতের বৃহত্তর সামাজিক-রাজনৈতিক রূপান্তরের ইঙ্গিত, তা বলা কঠিন। তবে এটিই নিশ্চিত—খুলনা–১ এখন দেশের অন্যতম আলোচিত নির্বাচনী কেন্দ্র।