কাল্পনিক গ্রুপের কল্পনাতীত প্রতারণা

রাজধনীর উত্তরা এলাকায় ভুয়া অফিস খুলে উচ্চপদে চাকরি ও ঘড়ি আমদানি-রপ্তানির লাভজনক ব্যবসার লোভ দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তারা হলেন সনজ সাহা ওরফে উজ্জ্বল চৌধুরী (৫৬), মো. মোশারফ হোসেন (৬৪) ও মো. শাহজাহান (৪৬)। গত মঙ্গলবার সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) অভিযান চালিয়ে রাজধানীর তাঁতীবাজার মোড়সংলগ্ন মালিটোলা পার্ক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। গতকাল বুধবার বিকেলে সিআইডির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

এজাহারে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, তিনি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর প্রতারক চক্রের সদস্য মো. আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি তাকে উচ্চপদে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে উত্তরা এলাকার একটি অফিসে ডেকে নেন। সেখানে বিসিজে (বাংলাদেশ চায়না জাপান) নামীয় ‘কাল্পনিক’ একটি গ্রুপে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি আড়াই হাজার মার্কিন ডলার মাসিক বেতনে পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য তার সঙ্গে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে লাভজনক একটি ব্যবসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে মো. আবদুর রাজ্জাক নামে ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় একটি কোম্পানির প্রতিনিধি এবং আমিনুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি নিজেকে কোম্পানিটির বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে ঘড়ি কেনাবেচার ব্যবসায় উদ্বুব্ধ করেন। এভাবে তিনি একটি কল্পিত ব্যবসার ফাঁদে পড়েন। চাকরির পাশাপাশি ভারতীয় কোম্পানির কাছে ঘড়ি সরবরাহের মাধ্যমে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ দেখিয়ে তাকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। ব্যবসায় বিনিয়োগ ও মুনাফা ভাগাভাগিতে তাদের মধ্যে একটি মৌখিক চুক্তিও হয়। ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে ৪৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতারকরা জানান, ঘড়ি সরবরাহ সম্ভব হয়নি এবং উল্টো আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি তুরাগ থানায় মামলা করেন।