গাজায় বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে বিমান হামলা, প্রাণ গেল নারী-শিশুসহ ৫ জনের

মার্কিন-মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের গাজায় আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আজ বৃহস্পতিবারের (৪ ডিসেম্বর) এ হামলায় অন্তত ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের হামলার কারণে যুদ্ধবিরতির শর্ত বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। আল-মাওয়াসি উপকূলীয় এলাকাটিতে হওয়া এই হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছেন বলে জানিয়েছে কুয়েত ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসক দল।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, নিহতদের বয়স ৩০ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে—যাদের মধ্যে রয়েছেন দুই নারী, একজন পুরুষ এবং আট ও ১০ বছর বয়সী দুই শিশু। আহত অন্তত ৩২ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানান, আল-নাজাত ক্যাম্প থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই ক্যাম্পে শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাটি মূলত এক হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। এর আগে, গতকাল বুধবার রাফাহ এলাকায় পাঁচ ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছিল বলেও জানানো হয়। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযোগ করে, হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে আইডিএফ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এ ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রতিশোধমূলক জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আল-মাওয়াসির বাস্তুচ্যুত এলাকায় প্রথমে একটি তাঁবুতে হামলা হয়। এরপর কুয়েত হাসপাতালের কাছাকাছি বিস্ফোরণ ঘটে, যা আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

হামাস এ ঘটনাকে অমানবিক ও নির্বিচার আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, এটি ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত ৭০ হাজার ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।