ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আট বছর বয়সী এক মেয়েশিশুর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার উপজেলার একটি গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘর থেকে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সজল চন্দ্র দাস বলেন, আট বছরের একটি মেয়েকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করার পর হত্যা করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
স্থানীয় লোকজন ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ওই শিশু বাড়িতে বোনের সঙ্গে পড়তে বসেছিল। এর মধ্যেই কে বা কারা শিশুটিকে ঘর থেকে বের হতে বলে। শিশুটি তখন ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে যায়। এরপর আর ঘরে ফিরে আসেনি। এরপর এলাকায় মাইকিং করে নিখোঁজের সংবাদ প্রচার করা হয়। কিন্তু কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
শিশুটির বড় বোন জানান, সন্ধ্যা সাতটার দিকে কাশি দিয়ে একজন লোক তার বোনকে ডেকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যান। এরপর বুধবার সকালে বোনের লাশ পাওয়া যায়।
শিশুটির বাবা বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নামাজে ছিলাম। হঠাৎ আমার বড় মেয়ে ফোন দিয়ে ছোট মেয়ের নিখোঁজের কথা জানায়। সকালে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জায়গায় মেয়ের লাশ পাই। কে বা কারা আমার মেয়েকে হত্যা করছে জানি না। আমি এর বিচার চাই।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকছুদ আহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বলেন, মেয়ের বাবা বুধবার রাতে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি মামলা জমা দিয়েছেন। সব কিছু মাথায় রেখে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।