জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেছেন, ‘মানুষের তৈরি মতবাদে বাংলাদেশ ৫৪ বছর চলেছে, কিন্তু মানুষের মুখে হাসি ফুটেনি-দুঃখ-কষ্টও দূর হয়নি। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমরা চাই জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে সব প্রতিষ্ঠান আল্লাহর আইনে পরিচালিত হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামবিরোধী কোনো আইন চলবে না। আল্লাহর দেওয়া আমানতের হাত দিয়ে সিল মারতে হবে আল্লাহর আইনের পক্ষে।’
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠের একাংশে আয়োজিত ইসলামী ৮-দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত সুন্দর, কিন্তু সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রথম স্বাধীনতা ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে। আবু সাঈদ ও মুগ্ধ জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন- প্রথম স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়েছে, তাঁরা জীবন দিয়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। সামনে আদর্শিক লড়াই হবে-মানুষের তৈরি জাতীয়তাবাদ নয়, এ দেশ চলবে কোরআন–সুন্নাহর আইনে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতেই ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার পরীক্ষার ফল দেখা যাবে। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মুসলমানের দলে পরিণত করতে চাই এই ৮ দলকে। যত ইসলামী দল আছে—সবাই ইসলামের পতাকার নিচে সমবেত হবে, ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপির অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপিকে বলেছি-আপনারাও আসুন। কিন্তু যখন তারা বলে, শরীয়তের আইনে বিশ্বাস করি না-এটি জেনে বলছে নাকি না জেনে- আমি এখনো নিশ্চিত নই।’
তিনি আরও বলেন, “আমরা ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের ধাঁচের নির্বাচন চাই না। সুন্দর পরিবেশে ভোটাধিকার নিশ্চিত করে নির্বাচন দিতে হবে। এজন্য প্রধান উপদেষ্টাকে আমাদের ৫ দফা দাবি বিবেচনায় নিতে হবে।”
অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, “দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো আল্লাহর আইনে আনুগত্য। প্রয়োজনে জিহাদ ও আত্মত্যাগ করতেও আমরা প্রস্তুত থাকতে চাই।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, নেজামে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইজহার, ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ খান প্রধান প্রমুখ।
সমাবেশে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আসনের প্রার্থী, নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা নিজ নিজ দলের ব্যানার–পোস্টার নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।