ভারতে পালিয়ে যাওয়া আসামীকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম হোসেনকে (৩৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় ভারতে পালিয়ে যাওয়া দুই আসামীকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে কসবা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে একটি পাসপোট আইনে মামলা দায়ের করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক ও শহরের কান্দিপাড়া এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে শাকিল মিয়া (৩৩) ও অপর  একজন হলেন শহরের মধ্যপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. আরিয়ান আহমেদ (২৪)।

বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভারতীয় ৪৯ ব্যাটালিয়ন  সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদেরকে আটক করেন। আজ শুক্রবার দুপুরে কসবা সীমান্তের ২০৩৯ পিলার এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তাদেরকে বিজিবির হাতে তুলে দেয়। বিজিবি বিকালে কসবা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় বিজিবির কসবা ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে কসবা থানায় একটি পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ নভেম্বর  গভীর রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেলোয়ার হোসেন ও সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল মিয়ার মধ্যে সংঘর্ষের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়ার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সাদ্দামকে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। এর আগে সন্ধ্যায় কান্দিপাড়ার মাদরাসা রোডে শাকিল অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায় বলে একটি ভিডিও ফুটেজে উঠে আসে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন ওরফে দিলীপসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নিহত সাদ্দামের বাবা মোস্তফা কামাল ওরফে মস্তু মিয়া গত ২৮ নভেম্বর সদর থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

কসবা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন দাস বলেন, গ্রেপ্তার শাকিল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত সাদ্দাম হত্যা মামলার আসামী। ভারতে পালিয়ে গেলে বিএসএফ শাকিল ও আরিয়ানকে গ্রেপ্তার করেন। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। পরে বিজিবি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়ের করেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের কারনে তাদের ফেরত দিয়েছেন।