বর্তমান প্রজন্ম কি মনে রেখেছে, নব্বইয়ের সেই রক্তঝরা সংগ্রামের কথা? ভুলে গেছে কি, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বরে অভ্যুত্থানে বিজয়ী হওয়ার কথা? সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে কখনো তীব্র, কখনো মৃদু আন্দোলনে প্রায় ৯ বছর লড়াই করেছিল এ দেশের ছাত্র-জনতা। তারা তীব্র আকাক্সক্ষায় যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, তা ভুলে যাওয়া বা ভুলিয়ে দেওয়া একটা দেশের সংগ্রামী ঐতিহ্যকে অস্বীকার করার শামিল। সাধারণত মনে করা হয় রাজনীতি অনেক বড় ব্যাপার, সাধারণ মানুষের এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই। কীভাবে ক্ষমতার ওপরের স্তরে ক্ষমতার হাত বদল হয় সে খবর সাধারণ মানুষ পায় না বা রাখে না। ফলে তাদের কাছে তাদের জীবন ধারণের সমস্যাটাই প্রধান। কিন্তু যখন জীবন ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে আর জীবনের সংকট ও রাজনৈতিক সংকট একাকার হয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষ আর নির্লিপ্ত থাকে না। তারা নেমে আসে আন্দোলনের পথে। ৮২ থেকে ৯০ এমনি করে মানুষ নেমেছে বারবার এবং ৯০ সালে বিজয়ী হয়েছিল সামরিক স্বৈরাচার এরশাদকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশের মানুষ একটা ঘোষণা শুনেছিল। দেশ দুর্নীতি আর অরাজকতায় ছেয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে পারে না, চলতে দেওয়া উচিত না। মন্ত্রীর বাসা থেকে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করার ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাপ্রধান এরশাদ। সাধারণ মানুষ ভাবলেন, ভালোই তো। সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছে, দুর্নীতি বন্ধ হবে, দেশ ভালো চলবে। যদিও শাসকের মসনদ থেকে যা বলা হয়, আর যা করা হয় তার মধ্যে বিস্তর ফারাক। কিন্তু মানুষ ভুল বুঝতে পারলেও, ভুলের মোহ থেকে মুক্ত হতে পারে না। দেখি না এবার কী হয় এই ভাবনা থেকে দেশের মানুষ প্রতিশ্রুতিতে মুগ্ধ হয়, ভরসা করতে চায় এবং সমর্থন জোগায় নতুন শাসককে। শাসকরাও প্রাথমিকভাবে ভালো কিছু প্রতিশ্রুতির পর তাদের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন করে। এর ভয়াবহতা দেখে মানুষ ভাবে, তারা প্রতারিত হয়েছে। মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়, জন্ম নেয় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ।
এরশাদ যেহেতু ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে বিএনপির কাছ থেকে, তাই আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক ও সমর্থনসূচক। ‘একটি গুলিও ফুটেনি, এক ফোঁটা রক্ত ঝরেনি, দেশে একটি নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে’ এ রকম একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল পত্রিকায়। ফলে এর সুযোগ নিয়েছিল সামরিক শাসক। সামরিক শাসন জারির ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ। রাজনৈতিক দলের অফিস তালা মারা। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে এরশাদ প্রকাশ করতে শুরু করলেন তার পরিকল্পনা। নখর বের করার পর চিনতে অসুবিধা হলো না, সামরিক শাসকের চেহারা। বোঝা গেল সামরিক শাসনের উদ্দেশ্য। কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করা যায়, সেই উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলো। স্বাধীনতা সংগ্রামে যে সব দাবি উচ্চারিত হয়েছিল, তা সবসময় শাসকদের লুণ্ঠন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। তাই সেসব ভুলিয়ে দিয়ে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়ার নানা পরিকল্পনা নেওয়া হতে থাকে। দুর্নীতির শেকড়ে পানি ঢেলে শুধু ডালপালা ছাঁটলেই দুর্নীতি দূর হয় না। বরং নতুন করে দুর্নীতিবাজরা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এরশাদের কর্মকাণ্ডে মানুষ বুঝতে শুরু করল, পুরনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে নতুন দুর্নীতিবাজদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে দেশ। দুর্নীতির নতুন চক্র তৈরি হচ্ছে। প্রথম আক্রমণ এলো শিক্ষার ওপর। শিক্ষাকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা, শিক্ষা দেওয়ার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অস্বীকার করার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল পরাধীন আমলেই। ১৯৫৯ সালে গঠিত শরিফ কমিশনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল ‘শিক্ষা সস্তায় পাওয়া যাবে না’। অবৈতনিক শিক্ষার ধারণাকে অবাস্তব বলা হয়েছিল সেই কমিশন রিপোর্টে। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন গড়ে উঠেছিল এর বিরুদ্ধেই।
যা পরবর্তী সময়ে ৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলন আর ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের যুক্ত করেছিল ব্যাপকভাবে। স্বাধীনতার পর কুদরত ই খুদার শিক্ষানীতিতেও শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে এ আকাক্সক্ষার স্বীকৃতি আসেনি। এরশাদ ক্ষমতায় এসেই ১৯৮২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ড. মজিদ খানের শিক্ষা সুপারিশ প্রণয়নের যে চেষ্টা করলেন, সেখানে স্পষ্ট করেই বলা হলো শিক্ষা সবার জন্য নয়। শিক্ষা হবে মেধা এবং টাকার ভিত্তিতে। শিক্ষার সুযোগ না পেলে দরিদ্র কৃষক শ্রমিকের সন্তান মেধাবী হবে কেমন করে? আর যাদের টাকা নেই, তারা শিক্ষা পাবে কীভাবে? শিক্ষার ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গড়ে উঠল ছাত্র আন্দোলন। জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, কাঞ্চন, দিপালী সাহার রক্তে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সমাজ চ্যালেঞ্জ করল সামরিক শাসনকে। পরবর্তী আক্রমণ এলো আরও কৌশলে। ভাষার দাবিতে আন্দোলন ও রক্ত দিয়ে যে ঐতিহ্য গড়ে তুলেছে দেশের মানুষ তা বারবার সমস্ত আন্দোলনে জনগণকে প্রেরণা দেয়। পরবর্তী সময়ে যে কোনো আন্দোলনে শহীদ মিনার হয়ে উঠেছে শপথ নেওয়ার ও প্রেরণা পাওয়ার স্থান। সব ধর্ম, লিঙ্গ, জাতিসত্তার সংগ্রামী মানুষের মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শহীদ মিনার। শহীদ মিনারে মোনাজাত ও দোয়া অনুষ্ঠানের কথা বলে এরশাদ এর অসাম্প্রদায়িক চরিত্রকে নষ্ট করার আয়োজন করেছিলেন। ছাত্র-জনতা সেই অপকৌশল পরাস্ত করে দেয়। এই সমস্ত ঘটনায় রাজনৈতিক দলসমূহ একত্র হতে শুরু করে। গড়ে উঠতে থাকে আন্দোলনের নানা সংস্থা। এরশাদ তার রাজনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাচনের ঘোষণা দেন। রাজনৈতিক দলসমূহ এই নির্বাচন বর্জন এবং প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকল, চিনিকল সব লোকসান করে এই অজুহাত দেখিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন এরশাদ। কিন্তু যে কথা আড়াল করেন, তা হলো এটা ছিল বিশ্বব্যাংক প্রণীত স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট পলিসির বাংলাদেশে বাস্তবায়ন। শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে ‘শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ বা স্কপ। কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম, খেতমজুরদের দৈনিক মজুরি নির্ধারণ এবং সার-বীজ-পানি ও কীটনাশকের দাবিতে গড়ে ওঠে ১৭টি ‘খেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের আন্দোলন’। নারী সংগঠনসমূহ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলে ‘ঐক্যবদ্ধ নারী সমাজ’। সংস্কৃতিকর্মীরাও গড়ে তোলেন ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট’। হরিপুরের তেলক্ষেত্র সিমিটার নামে এক ভুয়া কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও গড়ে ওঠে আন্দোলন। প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসকদের সংগঠন ‘প্রকৃচি’ আন্দোলনে নামে তাদের পেশার মূল্যায়নের দাবিতে। সমাজের প্রতিটি অংশেই নাড়া দেয় এই সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন। দমন-পীড়ন মোকাবিলা করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে থাকে সারা দেশে। রাজনৈতিক দলসমূহের জোট ১৫ দল ও ৭ দল গড়ে ওঠে।
সামরিক শাসন বেশি দিন চলতে পারে না। ফলে তার বৈধতা দরকার। এরশাদ নির্বাচন ঘোষণা করলেন। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করা নিয়ে বিতর্কে ১৫ দলীয় জোট ভেঙে যায়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট এবং জামাত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। বামপন্থিদের জোট ৫ দল এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে। ১৯৮৬ সালের সেই নির্বাচনে এরশাদ নির্বাচনে প্রশাসনকে ব্যবহারের এক ভিন্ন নজির স্থাপন করেন। ফলে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সংবিধানের ৭ম সংশোধনী এনে সামরিক শাসনের বৈধতা নিয়ে নেন। এরপর এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন নতুন রূপ গ্রহণ করে। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নুর হোসেন বুকে পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লিখে পুলিশ বিডিআর-এর গুলিতে আত্মাহুতি দিলে আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। আন্দোলনের মুখে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আন্দোলনকে বিভক্ত করার লক্ষ্যে নতুন নির্বাচন দেন এরশাদ। কিন্তু কোনো আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। অনুগত এবং রাতারাতি তৈরি করা বিরোধী জোটের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নামে একটা তামাশার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংবিধানে ৮ সংশোধনী এনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একজন স্বৈরাচার অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনের নামে প্রহসন করে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র পাল্টে দিল। এটা কি ট্রাজেডি না কমেডি তা নিয়ে বিতর্ক চলবে বহুদিন। আন্দোলনে কখনো জোয়ার এসেছে, কখনো লেগেছে ভাটার টান। সংগ্রাম থেকে ছিটকে পড়েছেন অনেকে। দালালির খাতায় নাম লিখিয়েছেন অনেক বড় নেতা। কিন্তু আন্দোলন থামেনি। ১৯৯০ সালের ১০ আগস্ট জেহাদের মৃত্যু ছাত্র সংগঠনগুলোকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দিল। গড়ে উঠল ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’। ১৯ নভেম্বর আন্দোলনরত ৮ দল, ৭ দল এবং ৫ দল মিলে ঘোষণা করল সরকার পতন ও দেশ পরিচালনার লক্ষ্যে তিন জোটের রূপরেখা। ২৭ নভেম্বর ডা. মিলনের মৃত্যু যে আন্দোলনের অগ্নুৎপাত ঘটাল, তার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরের ৪ তারিখে এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের মাধ্যমে স্বৈরাচারের বিদায় ঘটে।
আজ থেকে ৩৫ বছর আগের সেই দিন যেন আরও বহুদিন আমাদের স্মৃতিতে থাকবে। যখনই কোনো আন্দোলন গড়ে উঠবে তখনই ৯০-এর অভ্যুত্থানের কথা আন্দোলনকারীরা উল্লেখ করবেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠবে, আন্দোলনের আকাক্সক্ষাগুলো কি বাস্তবায়িত হয়েছে? স্বৈরাচার বিদায় বা গণতন্ত্র কি মুক্তি পেয়েছে? ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি কি বন্ধ করা গেছে? দেশের সম্পদ কি ব্যক্তি বা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া বন্ধ হয়েছে? একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কি চালু কিংবা স্থায়ী হয়েছে? শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, কৃষকের ফসলের লাভজনক দাম, নারীর মর্যাদা, আদিবাসীর স্বীকৃতি, সম্মান ও নিরাপত্তা কি নিশ্চিত হয়েছে? শোষণ, লুণ্ঠন, টাকা পাচার বন্ধ করে দেশের উন্নয়নের সুফল কি দেশের আপামর জনতা পাচ্ছে? এক কথায় উত্তর না। ফলে মানুষ বারবার ফুঁসে উঠছে, নেমে আসছে আন্দোলনের পথে। ২০২৪ সাল ছিল সেই অপূর্ণ স্বপ্নের বাস্তবায়নের সংগ্রামের লক্ষ্যেই পরিচালিত আন্দোলন। বেদনাদায়ক সত্য হলো, ২৪-এর অভ্যুত্থানের পরও ছাত্র-শ্রমিক-জনতার স্বপ্ন মার খেতে যাচ্ছে। একটি প্রজন্ম একটি সময় ধারণ করে। স্বপ্ন এবং সংগ্রামের স্মৃতি তাদের কাছে মূল্যবান। তারা চান, পরবর্তী প্রজন্ম সেই সংগ্রামের শিক্ষা মনে রাখুক। সংগ্রামের শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতায় নতুন করে সমাজ এবং দেশ নির্মাণ করুক। সেই অর্থে শুধু বিজয় নয়, পরাজয় থেকেও শিখতে হয়। বিশেষত বিজয় ধরে রাখতে না পারার বেদনা একটা বড় শিক্ষা। বিজয় অর্জন কঠিন, কিন্তু বিজয় ধরে রাখা কঠিনতর। মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে এই কথাটা আমরা শুনি এবং বলি হরহামেশাই। কিন্তু মনে রাখি কি? এর চেয়েও কঠিন বেদনা হলো বিজয়ের পর যারা দম্ভ করেন তারা যখন আকাক্সক্ষার বিপরীতে পথ চলতে থাকেন সেটা দেখা। বাংলাদেশ সেটাই দেখছে। পরাজিত হলেও সব মানুষ পরাজয় মেনে নেন না। সমস্যা মোকাবিলা করতে উঠে দাঁড়ান এবং আবার লড়েন। সে কারণেই ’৫২-এর পর ’৬২ আসে, ’৬৯-এর পর ’৭১ আসে। ’৯০-এর পর আসে ২০২৪। স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ হয়নি বলেই গণতন্ত্রের জন্য, বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য মানুষ লড়ছে। ’২৪-এর বিজয় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায়, মানুষ অনেকটা বাকরুদ্ধ। কিন্তু এই বিহ্বল দশা কাটবে এবং মানুষ আবার পথে নামবে।
লেখকঃ রাজনৈতিক সংগঠক ও কলাম লেখক
rratan.spb@gmail.com