আবারও অস্থিতিশীল পেঁয়াজের বাজার। সরবরাহ কমের অজুহাতে তিনদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকা করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম আবারও বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। সরবরাহ কমের কারণেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে তবে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দাম কমে আসবে দাবি বিক্রেতাদের।
সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে দুই ধরনের পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। পুরনো পেঁয়াজ যেমন রয়েছে তেমনি নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজও দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে। তবে আগের তুলনায় সরবরাহ অনেকটা কম লক্ষ্য করা গেছে। পুরানো পেঁয়াজ পূর্বে ৮০টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৩০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০টাকা কেজি দরে। এদিকে পেঁয়াজের বাড়তি দামের কারণে বেচাকেনা কম লক্ষ্য করা গেছে।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পেঁয়াজের দাম তো অতিরিক্ত বেড়ে গেছে বাবা। এতদাম দিয়ে এখন আমরা পেঁয়াজ খাব কীভাবে। প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম বাড়ছেই তো বাড়ছেই। কমার কোন নাম গন্ধ নেই। এতে করে আমাদের মতো গরীব মানুষদের দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। দু থেকে তিন দিন আগে পেঁয়াজ কিনলাম ৮০টাকা কেজি সেই পেঁয়াজ আজ দাম বেড়ে ১৩০টাকা হয়ে গেছে। কেজি প্রতি ৫০টাকা বেড়ে গেছে ফলে আমাদের মতো মানুষদের তো কঠিন সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে এই পেঁয়াজের দাম। আমাদের তো আয় রোজগার তেমন একটা নেই, এত দাম দিয়ে পেঁয়াজ কিনে খাওয়ার মতো অবস্থাও নেই। বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যেতে হবে এছাড়া তো কোন উপায় দেখছি না।
পেঁয়াজ কিনতে আসা শংকর চন্দ্র বলেন, দু থেকে তিন দিন আগে পেঁয়াজের দাম ৮০টাকা ছিল সেই পেঁয়াজ হঠাৎ করে এই কদিনের ব্যবধানে ১৩০টাকা হয়ে গেলো। এটা আমাদের মানুষদের জন্য খুব কঠিন একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা তো ছোটখাটো বেসরকারি চাকরি করি। আমাদের তো হিসেবের পয়সা। সীমিত আয়ে আমাদেরকে তো খুব হিসেব করতে চলতে হয়। কিন্তু পেঁয়াজের বাড়তি দাম আমাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দিয়েছে। এটা আসলে দেখারও কেউ নেই, বলারও কেউ নেই। দু থেকে তিন দিনের ব্যবধানে এমন কি হয়ে গেলো পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫০টাকা বেড়ে গেল।
অপর পেঁয়াজ ক্রেতা ইলিয়াস হোসেন বলেন, পেঁয়াজের বাজার তো দেখছি একেবারে উদ্ধমুখি গত দু থেকে তিন দিন আগে পেঁয়াজ কিনেছি ৮০ থেকে ৯০টাকা কেজি এখন দেখছি পুরানো পেঁয়াজ ১৩০টাকা আর নতুন কাঁচা পেয়াজ ১১০টাকা বিক্রি হচ্ছে। তারপরেও বাজারে পেঁয়াজ নেই আমদানি অনেকটা কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পেঁয়াজের বাড়তি দামের সাধারণ মানুষকে বেশ ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এখন কি করব, করার তো কিছু নেই খেতে তো হবেই। বাধ্য হয়ে আগে যে পরিমাণ কিনতাম তার থেকে পরিমাণ কমায়ে কিনতে হচ্ছে। আরও বাড়লে পেঁয়াজ খাওয়াই ছেড়ে দিতে হবে বলে মনে হচ্ছে।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আবুল হাসনাত বলেন, দেশীয় পেঁয়াজের মৌসুম প্রায় শেষের দিকে যার কারণে বাজারে এর সরবরাহ অনেকটা কমে গেছে। এর ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমের কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। আমরা তিন দিন আগে যে পেঁয়াজ বিক্রি করলাম ৮০ থেকে ৯০টাকা কেজি দরে সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ১৩০টাকা কেজি দরে। এর কারণ হলো তিনদিন আগে মোকামে যে পেঁয়াজ প্রতিমণ ৩ হাজার ২শ থেকে ৩শ টাকা ছিল সেটি এখন বেড়ে ৪ হাজার ২শ থেকে ৩শ টাকায় উঠে গেছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে মণ প্রতি ১ হাজার টাকা করে বেড়ে গেছে। কয়েকদিন আগে মোকামে যে পরিমাণ পেয়াজের আমদানি ছিল এখন মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় আমদানি কমে গেছে। মুলত মোকামে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি কম থাকার কারণে দাম উদ্ধমুখি হচ্ছে। এর ফলে বাড়তি দামে কিনতে হওয়ায় আমাদেরকেও বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। যদি বাজারে চাহিদা মোতাবেক পেঁয়াজের সরবরাহ থাকে তাহলে দাম কমত। এছাড়া নতুন মুড়িকাটা পেয়াজ উঠতে শুরু করলেও সেটি চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। যার কারণে ওই পেঁয়াজের দাম বাড়তি। তবে এখন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দাম কমে আসবে বলে দাবি তার।