‘ফিলিস্তিন’ একটি আবেগঘন বিষয় বাংলাদেশের মানুষের কাছে। নিজ নিজ রাজনৈতিক মত যাই থাক, বাংলাদেশের মানুষ ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার ও স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার পক্ষে। এ কারণে দল নির্বিশেষে এখানে সব সরকারের কাছে ফিলিস্তিন একটি সংবেদনশীল দিক। সেই ফিলিস্তিনের গাজায়, যেখানে জাতিগত নিধনের জন্য টানা গণহত্যা চলছে, বাংলাদেশের সরাসরি ভূমিকা পালনের ‘সুযোগ’ এসেছে। এখনকার মতো জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রায় সব পরিসরে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থের প্রতি সমর্থন জানানো ও প্রয়োজনে ত্রাণ সহায়তাতেই কি বাংলাদেশের ভূমিকা সীমিত থাকবে, নাকি গাজায় সরাসরি অবদান রাখার যে ‘সুযোগ’ সামনে আসছে তা কাজে লাগানো হবে, সে বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। জাতিসংঘের স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক কমিশন গত সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলকে গাজায় গণহত্যা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের একটি অভিযানের পর থেকে দেশটি প্রায় একতরফা যুদ্ধে গাজায় এ পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি মানুষ খুন করে। ইসরায়েলের পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্রের দূতিয়ালিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার কথা গত ১০ অক্টোবর থেকে। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২৭ নভেম্বরের তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে হত্যাকান্ড চলছেই।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র গাজার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের উদ্যোগ নেয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০-দফা প্রস্তাবের আওতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের তত্ত্বাবধান ও সেখানকার মানুষের ‘নিরাপত্তার জন্য’ এ বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কোনো বিরোধিতা ছাড়াই এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব ১৩-০ ভোটে পাস হয়। চীন ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত থাকে। বৈশ্বিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী এই দেশ দুটি আইএসএফ-এ ফিলিস্তিনিদের অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকা ও গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জাতিসংঘের স্পষ্ট ভূমিকার অভাব থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। তত্ত্বগতভাবে, ‘বহুজাতিক’ আইএসএফ গাজা উপত্যকা ‘নিরস্ত্রীকরণে’ ইসরায়েল ও মিসরের সঙ্গে কাজ করবে। মানবিক করিডরসহ সীমান্ত সুরক্ষিত করবে। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেবে। মানবিক কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করবে। একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে, যে বাহিনী গত ১৯ বছর ধরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হামাস পরিচালিত অনেক দায়িত্ব গ্রহণ করবে। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে গাজায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। হামাস সদস্যদের দুটি বিকল্প দেওয়া হবে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া অথবা গাজা থেকে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়া।
এটা পরিষ্কার যে, আইএসএফ পরিকল্পনার মূলে রয়েছে, গাজায় ‘আক্রমণাত্মক’ ও প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো ধ্বংস, নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে হামাসের সামরিক সক্ষমতা নষ্ট করা এবং সংগঠনটিকে পুনর্গঠনে বিরত রাখা। হামাস অবশ্য বারবার বলছে, তারা শাসন ত্যাগ করবে; কিন্তু অস্ত্র ত্যাগ করবে না। ফিলিস্তিনে এমন আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের ধারণাটি নতুন কিছু নয়। ভয়াবহ গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূলের পথ ধরে ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে প্রতিষ্ঠিত করার পর ফিলিস্তিনের জন্য ১৯৪৯, ১৯৭৪, ১৯৭৮, ২০০২ ও ২০২৪ সালে এমন বাহিনী গঠনের প্রস্তাব ওঠে। সমস্যা হলো, এসব প্রস্তাব তোলা হয় যতটা না ফিলিস্তিনিদের সার্বিক সুরক্ষার জন্য, তার চেয়ে বেশি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। আইএসএফ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে, এমনটা প্রত্যাশিত হলেও বাস্তবে তা কীভাবে কাজ করবে তা নিয়ে সন্দেহ ও প্রশ্ন আছে। দুটি কারণে এমন প্রশ্ন উঠছে। প্রথমত: ইসরায়েল গাজার কাছাকাছি কোথাও কোনো নিরপেক্ষ বাহিনী স্থাপন করতে দেবে না, এটা বলে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত: ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসরায়েলের সঙ্গে লিখিত চুক্তি ছাড়া কীভাবে আইএসএফ কাজ করবে তা কল্পনা করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন ও সুরক্ষা দেয়; রাষ্ট্র হিসেবে সেখানকার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দায়মুক্তি নিশ্চিত করার জন্যও তৎপর থাকে। কাজেই ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি ছাড়া গেলে যে কোনো বাহিনী ফিলিস্তিন বা গাজা সীমান্তে পৌঁছানোর আগেই আক্রমণের শিকার হতে পারে, এমন আশঙ্কা আছে। এ ক্ষেত্রে একটি উপায় সামনে আনা হতে পারে, তা হলো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের মধ্যে গাজায় শান্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে সম্মত হওয়া। এটি হয়তো সম্ভব। তবে এটি ঘটতে পারে দেশ দুটি যেমনটি চাইবে, তেমন শর্তে। এমন ব্যবস্থা গাজায় গণহত্যাকে ‘স্বাভাবিকীকরণের’ দিকে নিয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কাও আছে। যুদ্ধবিরতির কার্যকরের ঘোষণার পরও ইসরায়েল ও মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ভাড়াটে বাহিনীর হামলায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ গাজাবাসী নিহত ও ১৭ হাজার মানুষ আহত হওয়ায় এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনের শরণার্থীদের জন্য কর্মরত জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা আনরাওয়ার কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজ্জারিনির বক্তব্য অনুযায়ী, এটি ‘একটি মৃত্যু ফাঁদ’। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ব্যবস্থা ইসরায়েল বাহিনী, মার্কিন ঠিকাদার ও বিভিন্ন গুপ্ত চক্রের মাধ্যমে ‘মানবিক সাহায্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ইচ্ছাকৃত ও বিপজ্জনক চেষ্টা’। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-হামাস সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ, যা সেখানকার জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ, বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ চায়, ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ হোক। ইসরায়েলের আগ্রাসন থেকে সেখানকার মানুষ সুরক্ষিত থাকুক। গাজাকে আবার নতুন করে গড়ে তোলা হোক। কিন্তু কেবল আইএসএফ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস হওয়া সেই প্রত্যাশা পূরণের পথ খুলে দেয় না। বরং এতে ‘কৌশলগত’ ও ‘সম্ভাবনাময় হস্তক্ষেপের’ অন্য উপায়গুলো থেকে মানুষের নজর অন্যদিকে অনেকটা সরিয়ে নেয় কি না, তাও নজরে রাখা দরকার। তা হলো, জাতিগত নির্মূল ও গণহত্যা কার্যকরভাবে বন্ধের একটি উপায় হিসেবে ইসরায়েলের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে শক্ত উদ্যোগ নেওয়া। ইসরায়েলে সামরিক ও কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি দেশটি থেকে আমদানি বন্ধ করাও এ ক্ষেত্রে দরকার। কলম্বিয়া, তুরস্ক, স্লোভেনিয়া ও স্পেনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ ক্ষেত্রে এরই মধ্যে এগিয়ে এসেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরকারের ওপর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল এমনকি স্থগিত করার জন্য চাপ তৈরি হচ্ছে। নেদারল্যান্ডসে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মন্ত্রিসভা একমত হতে না পারায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রীসহ পাঁচজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। ফিলিস্তিনিদের রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইনি বিধান প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক অন্য রাষ্ট্রেরও এসব ক্ষেত্রে এগিয়ে আসা দরকার।
ইসরায়েল ‘দ্বিরাষ্ট্রীয়’ সমাধানের পরিকল্পনার শুরু থেকেই রূঢ়ভাবে বিরোধিতা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ এ পরিকল্পনা কার্যকর করতে জোরালোভাবে নামেনি। বরং পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলের সম্প্রসারণ ও দখলদারত্ব ‘মানিয়ে নেওয়ার’ জন্য এসব দেশের চেষ্টা কম নেই। আইএসএফ শেষ পর্যন্ত এমনই একটি চেষ্টার রূপ নেবে কি না, ইসরায়েলের দ্বারা গণহত্যা ও জাতিনিধনকে ‘মানিয়ে নেওয়ার’ পাশাপাশি আরেকটি মতলব হাসিলের চেষ্টা কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। এমন বিবেচনায় ইসরায়েলের ওপর বিভিন্ন ধরনের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থায় ‘দ্য হেগ গ্রুপ’ ধরনের সুনির্দিষ্ট বহুপাক্ষিক উদ্যোগগুলোকে শক্তিশালী করা কি প্রয়োজন? দ্য হেগ গ্রুপ ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের জন্য অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা, ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনা ও প্যালেস্টাইন-ইসরায়েল সংঘাতের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে, আইসিসি) রুলিং কার্যকরে সহায়তা দেওয়ার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি অংশের উদ্যোগ। মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কলম্বিয়া, বলিভিয়া এ গ্রুপের উদ্যোক্তা। মিসর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণে প্রায় ২০ হাজার সৈন্য নিয়ে আইএসএফ গঠনের কথা বলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনীতিকদের আলোচনায় যে প্রশ্নটি ওঠে, তা হলো আইএসএফ কি সরাসরি কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কাজ করবে? নাকি জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রচলিত শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় গাজায় নিযুক্ত হবে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আলজাজিরাকে বলেছেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের জন্য গঠিত যে কোনো স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাহিনীর ‘পূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈধতা’ থাকতে হবে। জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষা ও শান্তিনির্মাণ মিশনে বাংলাদেশের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৫ সালের চলতি ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গো, লেবানন, সুদান, সাউথ সুদান, মালি, পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন স্থানে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি সৈন্য ও অনেক পুলিশ সদস্যসহ বাংলাদেশের মোট ৬ হাজার ৩৫৯ জন শান্তিরক্ষী কাজ করছেন। গাজার জন্য আইএসএফ-এ বাংলাদেশও যুক্ত হতে পারে কি না, সে বিষয়ে কথা হচ্ছে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মহলে। ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই গাজায় আইএসএফ-এর অংশ হলে প্রয়োজনে ইসরায়েল বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। এ কারণে এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার ঝুঁকি আছে। ইসরায়েলের সঙ্গে যে কোনো ‘অপারেশনাল সম্পর্ক’ অথবা দেশটির হামলায় বাংলাদেশের সৈন্যদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হলেও দেশের ভেতরে প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। জনগণের আস্থা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কিছুটা আছে। তৃতীয় পক্ষ এর সুযোগ নিতে পারে।
তবু গাজার মানুষের প্রতি আবেগ, সেখানকার বাস্তব প্রয়োজন এবং নৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নিলে নানা দ্বিধা সত্ত্বেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক এ বাহিনীতে অংশগ্রহণের কৌশলগত সুবিধাগুলো অন্তত ভাবা যেতে পারে। জাতিসংঘের অনুমোদনসহ অথবা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) অংশ হিসেবে গাজায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক উভয় দিক থেকে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল বিষয়। এমন একটি বিষয়ে বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর গোপনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা আছে। কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের পাসপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা ছিল, ইসরায়েলে ভ্রমণে এ পাসপোর্ট ব্যবহার করা যাবে না। শেখ হাসিনার সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা না করে গোপন সিদ্ধান্তে এ নিষেধাজ্ঞাটি তুলে দেয়। গাজায় শান্তিরক্ষা ও পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য আইএসএফ-এ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত ‘বন্ধ দরজার আড়ালে’ না নিয়ে, খোলামেলা আলোচনা হওয়া দরকার। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলেও, এমন বিষয়ে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত গোপন থাকে না। তাই অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্তের জন্য জনসমক্ষে বিতর্ক হওয়া দরকার। কারণ নাগরিকরা বিস্তারিত জানতে চাইবে। জনগণের কাছে রাষ্ট্রের জবাবদিহির দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, দেশ রূপান্তর
shahid19@gmail.com