বাঁশফুলে ‘দুর্ভিক্ষ’!

‘বাঁশফুল’, নামটি অনেকে শুনলেও দেখেছেন কম। কারণ বাঁশফুল সাধারণত কয়েক যুগ পর ফোটে। বাঁশগাছ যখন তার উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখন একবারের জন্য ফুল দেয়। বাঁশফুল সম্বন্ধে সমাজে কিছু কথা প্রচলিত আছে। বলা হয়, যদি কোনো বাঁশঝাড়ে ফুল ফোটে, তবে ওই এলাকায় ইঁদুরের উৎপাত বেড়ে যায়। আবার অনেকে বলেন যেখানে বাঁশফুল হয়, সেখানে শিগগির দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। আসলে এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।  বাঁশের ফুল ফোটার সময় নির্দিষ্ট নয়, এটি প্রজাতির ওপর নির্ভর করে।  সাধারণত তা ৪০ থেকে ১২০ বছরের মধ্যে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ বাঁশ ৩০-৮০ বছরের ব্যবধানে ফুল দেয় এবং ফুল ফোটার পর পুরো বাঁশঝাড়টি মারা যায়, যা বংশবৃদ্ধির একটি বিরল প্রক্রিয়া। জাপানি বাঁশ আবার ১৩০ বছর পর ফুল ফোটাতে পারে। ফুল ফোটার পর প্রচুর বীজ তৈরি হয় এবং এর শক্তি নিঃশেষিত হওয়ায় পুরো বাঁশঝাড় দুর্বল হয়ে মারা যায়। বাঁশের জীবনচক্র সাধারণত ৪০ থেকে ১৩৫ বছর পর্যন্ত থাকে, যা বিভিন্ন প্রজাতিতে ভিন্ন ভিন্ন। সাধারণত, নতুন বাঁশ শিকড়ের বাঁশের কাণ্ড থেকে জন্মায়। বেশিরভাগ প্রজাতির ক্ষেত্রে খুব কম সময়েই তারা ফুল ফোটানো শুরু করে। ফুল ফোটার পর, ফুল ফোটে। এরপর, বাঁশের বন মারা যায়। যেহেতু একটি বাঁশের বন সাধারণত একটি বাঁশ থেকে জন্মায়, তাই বাঁশের মৃত্যু একটি বৃহৎ অঞ্চলে হয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বাঁশফুল নিয়ে কোনো কুসংস্কার থাকা উচিত নয়। এটি সাধারণ জীবনচক্র।