পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ১০.৫

পঞ্চগড়ে শীতের দাপট বাড়তে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশের অন্য সব অঞ্চলের তুলনায় এখানকার তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাচ্ছে। তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। আজ রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে এই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ।

এর আগে, শনিবার এখানে একই সময় তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১০ ডিগ্রি দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

1000204427

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের ঘরে নেমেছে। কারণ হিসেবে বলেন, তাপমাত্রার পারদ ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে থাকলে সেটিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। ডিসেম্বরেই তাপমাত্রা আরো কমে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা দেখা যায়। এতে সকালে কাজে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। অনেকেই গায়ে অতিরিক্ত কাপড় জড়িয়েও কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে। দরিদ্র পরিবারগুলো শীতবস্ত্রের সংকটে রয়েছে।

1000204424

জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, এই শীতে জেলা প্রশাসনের বড় কাজ হলো শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো। জেলা প্রশাসন এই কাজটি নিয়মিত করে যাচ্ছে। এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এ জেলায় ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল কিনে পাঁচ উপজেলার ৪৩ ইউনিয়নের বিতরণ করা হয়েছে। আরো ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান,পঞ্চগড় হিমালয়ের কাছে অবস্থিত দেশের সর্বোত্তরের জেলা। হিমালয় স্পর্শ করে বাতাস এ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ কারণে শীত এখানে জেঁকে বসে। প্রতিবছর শীত আসলেই গণমাধ্যমে শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রচারিত হয়। এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এ জেলায় ৩০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল কিনে পাঁচটি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের বিতরণ করা হয়েছে।  প্রতিটি কম্বলের দাম পড়েছে গড়ে ৩৪৭ টাকা। প্রতি ইউনিয়নে গড়ে দিতে পেরেছি ২০০ কম্বল। অথচ গরীব খেটে খাওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক। এবার প্রকৃত চাহিদা নিরূপন করেছি। আরো ৬৫ হাজার মানুষকে কম্বল দেয়া প্রয়োজন। প্রতি বছর দুই তিনশ টাকা দামের কম্বল দেয়া হয়। এর মান এত খারাপ থাকে যে এক বছর ব্যবহারের পর তা পরের বছর ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। কমপক্ষে এক হাজার টাকা দামের কম্বল দেয়া দরকার। যাতে কয়েক বছর তারা ব্যবহার করতে পারে। এতে পরের বছর একই ব্যক্তিকে কম্বল দিতে হবে না। এ জন্য ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদা দিয়ে সাড়ে ছয় কোটি টাকা মন্ত্রণালয়ের কাছে চেয়েছি। এতো গেলো সরকারি কম্বলের বিষয়।

এ জেলায় বহু এনজিও কম্বল বিতরণ করে। তাদের বলেছি সংখ্যায় বেশি নয়, কম দিন। তারপরও মানসম্মত কম্বল দেবেন। জার্মানভিত্তিক একটা এনজিও আমার কথা রেখেছে। তারা মানসম্মত কম্বল কিনেছে। প্রতিটি কম্বলের দাম পড়েছে ১৪শ টাকা। সাথে চাদরটাও দামি।

তিনি বলেন, যে সকল এনজিও পঞ্চগড়ে কম্বল বিতরণ করতে চান দয়া করে সংখ্যায় কম হলেও মানসম্মত দামি কম্বল দেবেন। যে কম্বলে পা ঢাকলে মাথা খোলা থাকে তা দিয়ে লাভ নেই। প্রতিবছর একজনকে কম্বল দেয়াও ঠিক না। তাকে নির্ভরশীল করার দরকার নেই। দেশের সবচেয়ে বেশি শীতল জেলায় যারা গরম কাপড় দিতে আসতে চান। আমাকে জানাবেন। আমি আপনাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করবো। তবে বিষয় একটাই। প্লিজ মানসম্মত দামি কম্বল দিন। একটা মানসম্মত কম্বল পেলে একটা পরিবার সারাজীবন ব্যবহার করতে পারবে।