বেলুচিস্তানের চামান সীমান্তে টানা দুই দিনের গোলাগুলিতে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানি ও আফগান বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে সীমান্ত পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে দ্য নিউজের বরাতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক সূত্র পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে।
গত শুক্রবার গভীর রাতে চামান সীমান্তের জামান সেক্টরে প্রথমে গুলির শব্দ শোনা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, মধ্যরাতে আফগান পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়া হয়। এর পরপরই পাকিস্তানের সেনারা পাল্টা জবাব দেয়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলতে থাকে।
শুরুতে হালকা অস্ত্র ব্যবহার করা হলেও দ্রুত পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে। পরে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানি বাহিনী ভারী অস্ত্র মোতায়েন করে। রকেট লঞ্চার, কামানসহ ভারী গোলাবারুদের ব্যবহারে আফগান তালেবান বাহিনীর তিনটি সীমান্ত চৌকি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানা গেছে। সূত্রগুলো বলছে, সাধারণ মানুষকে ক্ষতির বাইরে রাখতে ‘নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্র’ ব্যবহার করা হয়।
প্রাথমিক হামলার পর আফগান তালেবান সেনাদের একটি অংশ জনবহুল এলাকায় সরে যায়। এরপর সেখান থেকেও গুলিবর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানি বাহিনী ওই এলাকাতেও ভারী অস্ত্র দিয়ে জবাব দেয়।
দুই দিনের সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে বলে দ্য নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পরিস্থিতি আরও অবনতি রোধে দুই পক্ষই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে।