অস্ট্রেলিয়ায় আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের নিচের শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার বন্ধের নতুন আইন কার্যকর হচ্ছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ ক্ষতিকর কন্টেন্ট এবং সাইবার বুলিং থেকে শিশুদের সুরক্ষা দেবে।
দ্য জাপান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বুধবার (৭ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়া আইনের আওতায় ইউটিউব, এক্স, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামসহ বেশিরভাগ জনপ্রিয় সামাজিক প্ল্যাটফর্মের একাউন্ট শিশু-কিশোরদের জন্য বন্ধ থাকবে। তবে মেসেঞ্জার কিডস, হোয়াটসঅ্যাপ, গুগল ক্লাসরুম এবং ইউটিউব কিডসের মতো কিছু প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।
শিশুদের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন মহল এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইউনিসেফের মতামত অনুযায়ী, শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করলে অনলাইন হয়রানি কমবে না। বরং শিশুদের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া উচিত।
অনেক কিশোর-কিশোরীও মনে করছেন, এই আইন তাদের সাংবিধানিক অধিকার, বিশেষ করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করবে। তারা বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত পিতামাতার নিয়ন্ত্রণে হওয়া উচিত, সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নয়।
অন্যদিকে অভিভাবকরা সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক অভিভাবক বলেন, ‘এটি একটি দারুণ পদক্ষেপ। তবে আশা করি সরকার যথাযথ দক্ষতার সঙ্গে এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে।’
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়াও এসেছে। ইউটিউব জানিয়েছে, দ্রুত এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিশুদের আরও অনিরাপদ করে তুলতে পারে। ইতিমধ্যেই ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম প্রায় পাঁচ লাখ শিশু-কিশোরের একাউন্ট বন্ধ করেছে।
কমিউনিকেশনস মন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, ‘আমরা অভিভাবকদের পাশে আছি, সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মের নয়। অস্ট্রেলিয়া শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বে উদাহরণ স্থাপন করবে এবং বড় প্রযুক্তি কোম্পানির চাপের কাছে নত হবেনা।’