হাঁটি হাঁটি পা পা করে তিন দশক পার করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)। ‘সত্যের দীপ্ত সাহসে, চবিসাস তিন দশকে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে চবিসাসের ২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
সোমবার (০৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অনুষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) প্রাঙ্গণ থেকে র্যালি শুরু হয়ে শহীদ মিনার চত্বর ঘুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। চবি সাংবাদিক সমিতির ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্ল্যা পাটওয়ারী।
আলোচনা সভায় "গণমুখী সাংবাদিকতার প্রত্যাশা: রাষ্ট্র, সমাজ ও সাংবাদিকের দায়-দায়িত্ব" বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চবি যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে চবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ শুভ্রের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন চবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জানে আলম। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চবি সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেফায়েত উল্যাহ রূপক। এছাড়া সাংবাদিক সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ সমিতির সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, চবি সাংবাদিক সমিতির সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। এ সংগঠনের সাবেক সদস্যরা মূল ধারার সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অনেকেই ভালো ভালো জায়গায় রয়েছে তাদের সকলের সাংবাদিকতার হাতেখড়ি এ সংগঠনের মাধ্যমে। সাংবাদিকতা একটি মহৎ ও ইতিবাচক পেশা। এ পেশার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ করার বহু সুযোগ রয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় সাংবাদিকতার ধরণ পাল্টেছে। এখন সোশ্যাল মিডিয়া জনপ্রিয় হওয়ায় সাংবাদিকতার ধরণও পরিবর্তন হয়েছে। উপাচার্য বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সত্য তুলে ধরতে হবে। উপাচার্য সাংবাদিক সমিতির সফলতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে মূল লক্ষ্য; সেটি পূরণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সমাজ, রাষ্ট্রের প্রতি সাংবাদিকদের দায় রয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষ দেখা যায় সাংবাদিকরা সেসব দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন। সাংবাদিকদের উচিত সঠিক তথ্য অনুসন্ধান করে সংবাদ পরিবেশন করা। সবার সামনে সত্য তুলে ধরা। কিন্তু সেটা অনেক ক্ষেত্রে হয়ে উঠে না। এজন্য সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনার ক্ষেত্রে চবি সাংবাদিক সমিতির ভুমিকা রয়েছে। সাংবাদিকতায় মুখরোচক তথ্য দিয়ে টিকে থাকা যায় না। মানুষের মনে জায়গা করে নিতে হলে সত্য সংবাদ তুলে ধরতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এখন জাতির দাবি। গঠনমূলক সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, চবি ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. মো. আনোয়ার হোসেন, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. মাহফুজুল হক (মাহফুজ পারভেজ), দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন মিঝি, অতীশ দীপঙ্কর হলের প্রভোস্ট এ.জি.এম নিয়াজ উদ্দিন, চবি অফিস ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ও চবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খাদিজা মিতু, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহিদুর রহমান, সমাজতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আককাছ আহমদ, চবি যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হোসাইন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইমরান হোসাইন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমাম ইমু, চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আলী, চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, চবি শাখা ছাত্র মজলিসের সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমি, চবি শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আবদুর রহমান, চবি বিপ্লবী ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক তাহসান হাবিবসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “চবিসাস সবসময় শিক্ষার্থীদের কন্ঠস্বর হয়ে কাজ করে। যেখানে অন্যায়, দুর্নীতি সেখানে চবিসাস সামনে এগিয়ে আসে। আমরা আশা রাখবো, চবিসাস বর্তমানের ন্যায় সামনেও শিক্ষার্থীদের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর হয়ে থাকবে।”
অনুষ্ঠানে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, “জুলাই আন্দোলনে চবিসাস যে পরিমাণ ভুমিকা রেখেছে তা অনস্বীকার্য। ছাত্রলীগের আমলে চবিসাস শিক্ষার্থীদের পক্ষে হয়ে কাজ করতো। অনেক সময় সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ফ্যাসিবাদের কারণে চবিসাস স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতো না।”
এসময় চবি সহকারী প্রক্টর নাজমুল হোসাইন বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পরে আমরা চবিসাস থেকে যতটুকু আশা করেছিলাম তা পাইনি। গতানুগতিক নিয়মে চললে কিছুই পরিবর্তন সম্ভব না। আশা করছি, চবিসাসের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরবেন।“
এসময় চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “চবিসাস কখনো একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিবে না। চবিসাস ক্যাম্পাসের সব সংগঠনকে সমান গুরুত্ব দিবে বলে আশা করছি। চবিসাস বর্তমানের ন্যায় এগিয়ে যাবে।”
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত শিক্ষকবৃন্দ, চবিসাসের সাবেক-বর্তমান নেতৃবৃন্দ, বর্তমান সদস্যবৃন্দ, কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ, ছাত্র সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, চাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।