ইরাক যুদ্ধের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ারকে গাজার পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোর্ড অব পিস’ এর কেন্দ্রীয় পদে রাখা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ফাইন্যানশিয়াল টাইমস। আরব রাষ্ট্রগুলোর তীব্র আপত্তির পরই তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনায় ব্লেয়ারের নামই ছিল বোর্ডের সম্ভাব্য প্রধান সদস্য হিসেবে সবচেয়ে আলোচিত। তবে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের নেতারা তার প্রতি গভীর বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন।
ফাইন্যানশিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সূত্রের তথ্য মতে, ব্লেয়ারকে সম্পূর্ণভাবে বাদ না দেওয়া হলেও তার ভূমিকা হবে ‘অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ’ এবং সম্ভবত আনুষ্ঠানিক শান্তি বোর্ডের বাইরে। ওই সূত্র জানায়, ‘আমেরিকানরা তাকে পছন্দ করে, ইসরায়েলও করে, কিন্তু অঞ্চলের আরব ও মুসলিম নেতাদের বড় অংশই তাকে নিয়ে আপত্তি রাখেন।’
এখনও পরিষ্কার নয় কোন কোন আরব নেতা সরাসরি আপত্তি জানিয়েছেন। তবে এ বছরের শুরুতে মিশরে তার সম্ভাব্য সফর নিয়েই তীব্র জনরোষ দেখা যায়। মিশরের সাবেক মন্ত্রী কামাল আবু ঈতা এক মন্তব্যে বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগতভাবে ব্লেয়ারকে বিশ্বাস করি না। তিনি উপনিবেশবাদই ধ্যানধারণার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি। গাজা শুধু নিজের জনগণের দ্বারাই শাসিত হতে পারে-এটাই আমাদের অবস্থান।’
সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা অতীতে ব্লেয়ারকে উপদেষ্টা হিসেবে অর্থপ্রদান করেছে বলে ধারণা করা হয়, তারাও এখন গাজা পরিস্থিতিতে কোনও নিরাপত্তা বা স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে।
ব্রিটেন ও মধ্যপ্রাচ্যে এখনও ব্লেয়ারকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র। ইরাক আক্রমণের সময় লন্ডন, আম্মান, বৈরুত ও কায়রোতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। পরে চিলকট রিপোর্টে বলা হয়, ব্লেয়ার ইরাকের হুমকি যথেচ্ছভাবে বাড়িয়ে দেখিয়েছিলেন এবং যুদ্ধকে ‘শেষ বিকল্প’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন- যা ছিল বিভ্রান্তিকর।