ইউক্রেনে দ্রুত নির্বাচন দাবি ট্রাম্পের, যা বললেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনে দ্রুত জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ—যুদ্ধের অজুহাতে কিয়েভ নির্বাচন এড়িয়ে যাচ্ছে, যা দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই ইউক্রেনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ নিরাপদ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো সহযোগিতা দিলে নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাত এরই মধ্যে আরও তীব্র হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, তারা ইউক্রেনের আরও একটি বসতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অন্যদিকে লিমান, স্লোভিয়ানস্কসহ কয়েকটি শহরে রুশ হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে কিয়েভ। দোনেৎস্কের পোকরভস্ক শহরেও তীব্র লড়াই চলছে। শহরের কিছু অংশ এখনও ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ, যদিও সামগ্রিক পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে নয় বলেও স্বীকার করেছে প্রশাসন।

সংঘাতের মাঝেই নির্বাচন বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এখনই নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, যুদ্ধকে অজুহাত করে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।

রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে জরুরি অবস্থা জারি হয়, যার ফলে নির্বাচন স্থগিত থাকে। দেশটির আইনে যুদ্ধ চলার সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। ২০২৪ সালের মার্চে নির্ধারিত নির্বাচনও এই কারণে পিছিয়ে যায়।

ট্রাম্পের মন্তব্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান জেলেনস্কি। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে সংসদের ক্ষমতাসীন দলকে আইন সংশোধনের প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে নির্বাচন আয়োজনের প্রধান শর্ত হলো—ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

রাশিয়াও জেলেনস্কির বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, নির্বাচন প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অনেক আগেই মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনেও তৎপরতা চলছে। ইউরোপীয় দেশগুলো শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে সমন্বিত আলোচনা করতে যাচ্ছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস জানান, সংকট সমাধানে দেশটি অঙ্গীকারবদ্ধ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ইউরোপ ইউক্রেনকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।