স্পেনের সেকুন্ডা ডিভিশন আরএফইএফের ম্যাচে কোরুক্সো এফসি ও রিয়াল আভিলার ১-১ ড্র মাঠের লড়াইকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ম্যাচ শেষে ঘটে যাওয়া এক বিব্রতকর ঘটনা। প্রেস রুমে রিয়াল আভিলার কোচ মার্ক গার্সিয়া পুইগের বিরুদ্ধে হুইলচেয়ারে থাকা এক সাংবাদিককে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে গার্সিয়া পুইগ ও কোরুক্সোর মিডিয়া বিভাগের কর্মী হোসের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। হোসে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন। একটা ফুটবলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গার্সিয়া পুইগ সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন: ’তুমি প্রেসে কাজ করো, ভুল তথ্য দিও না… তুমি তোমার মত দাও, আমি আমারটা দেব। কিন্তু তুমি সাংবাদিক আর আমি কোচ—এটাই পার্থক্য।’
সাংবাদিকের সঙ্গে কথার লড়াই শেষে কোচ যখন ঘর ছাড়ছিলেন, তখন হঠাৎ চিৎকার, বিশৃঙ্খলা ও কান্নার শব্দ শোনা যায়। পরে স্থানীয় মাধ্যম 'কাদেনা এসইআর' দাবি করে, কোচ হোসের হুইলচেয়ারে একটি লাথি মারেন। এতে হোসে পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
টেলিভিশন দে গালিসিয়া (টিভিজি)-এর ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতেও মুহূর্তটির চরম উত্তেজনা ধরা পড়ে। ঘটনার পরপরই কোরুক্সো এফসি এক বিবৃতি দিয়ে কোচের আচরণের তীব্র নিন্দা জানায় এবং জানায়, ইতোমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
প্রতিবন্ধী কর্মীর প্রতি এমন আচরণ ‘অগ্রহণযোগ্য’। ক্লাবটি জানায়, ‘সহিংসতার কোনো স্থান নেই আমাদের ক্লাব বা এই খেলায়।’ রিয়াল আভিলার পাল্টা দাবি: ‘সবই মিথ্যা’। অন্যদিকে রিয়াল আভিলা সিএফ সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ’মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে।
তাদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলে থাকা বহু সাক্ষী নাকি নিশ্চিত করেছেন, কোনো শারীরিক আঘাত হয়নি। কোচকে ‘মিথ্যা অপমান’ করা হচ্ছে। গার্সিয়া পুইগ মানহানির অভিযোগে মামলা করবেন। রিয়াল আভিলা ক্লাব জানায়, ‘আমরা আমাদের পেশাদারদের সম্মান রক্ষায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবো।’ ভিডিও ও অডিও প্রমাণসহ পুরো ঘটনাটি এখন পুলিশের তদন্তাধীন। দুই পক্ষের বিবৃতি বিপরীত হওয়ায় তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রাখছে স্প্যানিশ ফুটবল অঙ্গন।