পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু দিক পরবর্তী সংসদের বিবেচনার জন্য রাখা উচিৎ বলে আপিল বিভাগকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে রাষ্ট্রপক্ষ পঞ্চদশ সংশোধনীর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের শুনানি শুরু করে।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, জামায়াতের আইনজীবী তাদের বক্তব্যে বলেছেন, এখনই পঞ্চদশ সংশোধনীর শুনানি শেষ না করে এটিকে মুলতবি রেখে পরবর্তী সংসদের হাতে দেওয়াই ভালো হবে। এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের মতামত কী?
উত্তরে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, তারা চান শুনানি সম্পন্ন হোক এবং আপিল বিভাগ থেকে রায় আসুক। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা আগের আপিল বিভাগের মত কোনো রায় দিতে চাই না, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কয়েকদিনের মধ্যে নতুন আপিল বিভাগ গঠিত হলে সেখানে শুনানি হলে কেমন হবে, অথবা দীর্ঘ মুলতবি দিলে সব পক্ষই সুবিধা পাবে।’ পরে শুনানি আবার শুরু হলে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, তারা আজই শুনানি শেষ করতে চান।
পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি ধারায় পরিবর্তন আনা হয়।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি ও সংশোধনীর কিছু ধারা সংক্রান্ত পৃথক দুটি হাইকোর্ট রিট দায়ের করা হয়। একটি রিট দায়ের করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদকসহ ৫ ব্যক্তি এবং আরেকটি নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।
হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হলো। এছাড়া ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) অনুচ্ছেদও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। তবে গণভোটের বিধানসংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ (দ্বাদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে আনা) পুনর্বহাল করা হয়। পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিল না করে অন্য বিধানগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সংসদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, এমন নির্দেশনা রায়ে রয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক আপিল হয়। সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিল করেন, মো. মোফাজ্জল হোসেন আরেকটি এবং জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল একটি আপিল করেন। এর শুনানি ৩ ডিসেম্বর শুরু হয় এবং ধারাবাহিকভাবে ৪, ৭, ৮ ও ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। আদালতে বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তির পক্ষে শুরুতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া।
গতকাল শিশির মনির বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল হলে আবার বাকশাল ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ও বাদ পড়বে। তিনি বলেন, ‘যেভাবে আছে, সেভাবেই থাকলে বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়গুলো দেখার সুযোগ থাকবে। গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে। এই ব্যাপ্তি খোলা রাখা উচিত।’