ইরান এবং মিশরের মতো দেশগুলোতে সমকামিতা মারাত্মক অপরাধ। ২০২৬ সালের ২৬ জুন সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’র ম্যাচে মুখোমুখি হবে এই দুটি দল। সেই দিনে ভেন্যুটির বাইরে এলজিবিটিকিউ+প্রাইড দিবস উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ফিফাকে চিঠিও দিয়েছে মিশর। একই পথে হাঁটছে ইরানও।
২০২৬ বিশ্বকাপে সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে মোট ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচকে বিশেষভাবে উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিয়াটল প্রাইড ম্যাচ অ্যাডভাইজরি কমিটি। প্রথমটি ১৯ জুন, দ্বিতীয়টি ২৬ জুন। ১৯ জুনে পালন করা হবে জুনটিনথ দিবস। দাসপ্রথার বিলুপ্তি দিবস হিসেবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছরই পালিত হয়। কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক ঘোষিত ছুটির দিনও এটি।
২৬ জুন কোনো দিবস নেই। তবে ২৮ জুন এলজিবিটিকিউ অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে কাছাকাছি থাকা ২৬ জুনেই এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতার পরিকল্পনা আয়োজকদের। সেদিন স্টেডিয়ামের গ্যালারি ও সিয়াটলজুড়ে শিল্পকর্ম প্রদর্শনসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা আছে। তবে পরিকল্পনাটি বিশ্বকাপ ড্রয়ের আগেই করা হয়েছিল। ড্র শেষে ম্যাচের চুড়ান্ত লাইনআপে দেখা যায়, ২৬ জুন সিয়াটলে পড়েছে ইরান–মিসর ম্যাচ।
এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইজিপ্ট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) জানিয়েছে, আগামী জুনে ইরানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচটিতে এলজিবিটিকিউ+প্রাইড সম্পর্ক সব কার্যক্রম বাতিলের জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের আয়োজন ম্যাচে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাছাড়া এই আয়োজন সমর্থকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা উসকে দিতে পারে।
অন্যদিকে স্থানীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ বলেছেন, বিশ্বকাপ ম্যাচের দিন সমকামীদের আয়োজনের বিষয়ে তেহরান ও কায়রো এ বিষয়ে আপত্তি তুলেছে। তিনি এটিকে ‘একটি অযৌক্তিক পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘এটি নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে সমর্থন করে’। এছাড়া সোমবার ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, তেহরান এ বিষয়ে ফিফার কাছে আপিল করবে।