মেক্সিকো সেনেটে এক নতুন শুল্ক কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে। যা ভারতের পাশাপাশি চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার পণ্যের ওপরও প্রযোজ্য হবে। দেশের সঙ্গে কোনও বাণিজ্য চুক্তি না থাকা দেশগুলোর অটোমোবাইল, অটো পার্টস, টেক্সটাইল, প্লাস্টিক, ধাতু এবং জুতোসহ নানা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০% শুল্ক আরোপ করা হবে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিবিসির প্রতিবিদন থেকে জানা যায়, মেক্সিকোর সেনেটে বিলটি ৭৬ ভোটে পাশ হয়। বিপক্ষে মাত্র ৫ ভোট পড়েছে এবং ৩৫ জন ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন। নতুন নীতির মাধ্যমে ১,৪০০-এর বেশি পণ্যের শুল্ক বাড়ানো হবে। বেশিরভাগ পণ্যের ওপর শুল্ক ৩৫% হবে। তবে কিছু নির্বাচিত পণ্যের ওপর এটি ৫০% এ পৌঁছাবে। এর ফলে দেশটি আগামী বছর প্রায় ৩.৭৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৩,৯১০ কোটি টাকা) অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের আশা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম অভ্যন্তরীণ শিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখছেন। তবে অনেকের ধারণা, এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলও থাকতে পারে, বিশেষ করে ২০২৬ সালে ইউএস-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির পর্যালোচনার আগে।
ভারতের দিক থেকে দেখা গেলে, নতুন শুল্ক নীতি ভারতের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। ২০২৪ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১১.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতের মেক্সিকোতে রপ্তানি ৮.৯ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ২.৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। যা ভারতের জন্য উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য উদ্বৃত্ত তৈরি করেছে। মূলত মোটরগাড়ি, অটো পার্টস ও অন্যান্য যাত্রীবাহী গাড়ি রপ্তানি হয়। নতুন শুল্কের ফলে এই পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য প্রভাবিত হতে পারে।
মেক্সিকোর নতুন শুল্ক নীতি আগামী বছর থেকে কার্যকর হলে ভারতের রপ্তানি আয় এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।