রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের গাজী তাহমিদ খান হত্যার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ বাংলাদেশের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টায় চবির জিরো পয়েন্টে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি ছাত্রদল ও বিএনপির খুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় এছাড় সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বলেন বক্তারা।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের “জ্বালো রে জ্বালো আগুন জ্বালো”, “সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও”, “আমার ভাই মরল কেন, বিএনপি জবাব দে, ছাত্রদল জবাব দে”, “১, ২, ৩, ৪ সন্ত্রাসীরা বাংলা ছাড়”, “তুমি কে? আমি কে? তাহমিদ–তাহমিদ” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমানের সঞ্চালনায় ‘আপ বাংলাদেশ’এর ছাত্রনেতা রবিউল হাসান বলেন, “২৪ তারিখের পর আমরা রক্তাক্ত বাংলাদেশ চাইনি। এমন একটি দেশ চাই যেখানে হত্যা সন্ত্রাস থাকবে না, সবাই নিরাপদে থাকবে। কিন্তু গঠনমূলক সমালোচনা করায় আমাদের ভাই তাহমিদকে বিএনপির সন্সাসীরা হত্যা করেছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
চবি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, “আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নামি, আর পরে দেখতে হয় সাকিব ও তাহমিদ নিহত হচ্ছে। যারা পেশিশক্তি দেখাচ্ছে তাদের সতর্ক করছি— এ দেশ সবার, কেউ এটাকে নিজের সম্পত্তি ভাবলে তাকে দেশ ছাড়তে হবে।”
ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী তাহসান হাবিব বলেন, “বিজয়ের মাসে দাঁড়িয়ে আমরা বিজয়ের কথা বলতে পারছি না। কেন আমরা নিহত হব, তার কারণ জানার অধিকার আমাদের আছে। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা এসেছিল—আমরা তাকে বিদায় করেছি। এখন কেউ আবার সেই পথ ধরতে চাইলে একই পরিণতি হবে। ইন্টারিম সরকার এত হত্যাকাণ্ডের পরও কেন নীরব? তারা যদি ব্যবস্থা নিতে না পারে, তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া উচিত।”
উল্লেখ্য, রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক সেবন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়ে চার দিন আইসিউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান সাকিবুল হাসান রানা। আর চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন গাজী তাহমিদ খান।