টিউলিপসহ ২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট হচ্ছে

ঢাকার গুলশানের একটি প্লট অবৈধভাবে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করিয়ে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ান সিদ্দিকসহ দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

অন্য যার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয় তিনি হলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশারফ হোসেন। তবে মামলার আসামি হলেও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামানের নামে আপিল কেস পেন্ডিং থাকায় তাকে বাদ দিয়ে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মুর্তজা আলী সাগর শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দাখিল করবেন।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরী গুলশানে ১ বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের একটি প্লট বরাদ্দ পান। সরকারি ইজারা চুক্তি অনুযায়ী, ৯৯ বছরের মধ্যে ওই প্লট হস্তান্তর বা ভাগ করে বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। তবে ১৯৭৩ সালে তিনি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়াকে আমমোক্তার মাধ্যমে প্লটটি হস্তান্তর করেন। এরপর প্লটটি ভাগ হয়ে বিক্রি হয় এবং ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ শুরু হয়। জহুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার সন্তানদের মধ্যে বিরোধ শুরু হলে মামলা হয়। মামলা চলমান অবস্থায় এবং হস্তান্তর নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় রাজউকের সংশ্লিষ্ট আইন উপদেষ্টারা ইস্টার্ন হাউজিংকে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন দেন। টিউলিপ প্রভাব খাটিয়ে ওই প্লটটি ইস্টার্ন হাউজিংয়ের নামে স্থানান্তর করান। সেখানে নির্মিত ফ্ল্যাট ইস্টার্ন বিনামূল্যে নেন।