বাংলাদেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশনের নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। এখন থেকে বিয়ে ও তালাক-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলেন, বিয়ে ও তালাক নিয়ে বহু বছর ধরে কাগজভিত্তিক ম্যানুয়াল নিবন্ধন ব্যবস্থার কারণে একজন ব্যক্তি সহজেই আগের বিয়ে বা তালাকের তথ্য গোপন করে নতুন করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছিলেন। ফলে নতুন সঙ্গী প্রতারিত হওয়া এবং সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছিল বহু মানুষকে।
২০২১ সালের ৪ মার্চ চারজন ভুক্তভোগীর পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। আবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কোনো ডিজিটাল ডেটাবেজ না থাকায় আগের বিয়ে বা তালাকের সঠিক তথ্য যাচাই করা প্রায় অসম্ভব। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বিয়ে তালাক-সংক্রান্ত প্রতারণা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২২ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেয়। রুলে বিয়ে ও তালাকের তথ্য ডিজিটালভাবে নিবন্ধনের জন্য কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট কেন তৈরি করা হবে না, কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট তৈরিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট তানজিলা রহমান। ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের এই রায়টি যুগান্তকারী। দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে ও তালাক-সংক্রান্ত প্রতারণা বন্ধে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’ হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে ইশরাত হাসান বলেন, বিয়ে ও তালাকের ক্ষেত্রে কোনো অপারেশনাল ও কার্যকর ডিজিটাল ডেটাবেজ না থাকায় প্রতারণার সুযোগ তৈরি হয়, যা নাগরিকের সম্মান ও মৌলিক অধিকার-সংক্রান্ত সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মানবিক মর্যাদা লঙ্ঘন করে। আদালত বলেছে, ‘রাইট টু লাইফ’ শুধু বেঁচে থাকার অধিকার নয়; এটি মানবিক মর্যাদা রক্ষার অধিকারকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট আরও বলেছে, বিয়ে ও তালাকের সব তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে, যাতে প্রতিটি তথ্য সরকারি ব্যবস্থায় সুরক্ষিত থাকে, ডেটাবেজ সম্পূর্ণ কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য হয় এবং নাগরিকরা, বিশেষ করে নারীরা, সহজেই তথ্য যাচাই করতে ও ডিজিটাল কপি সংগ্রহ করতে পারেন।’